১২ দফা দাবিতে তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরে ডেপুটেশন

আগরতলা, ১০ জুন : তপশিলি জাতিভুক্ত মানুষের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক উন্নয়নের দাবিতে বুধবার ত্রিপুরা তপশিলি জাতি সমন্বয় সমিতির সদর মহকুমা কমিটির পক্ষ থেকে তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরে ১২ দফা দাবি সম্বলিত একটি ডেপুটেশন প্রদান করা হয়। সংগঠনের প্রতিনিধিদল দফতরের আধিকারিকদের হাতে স্মারকলিপি তুলে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি জানায়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ দাস জানান, রাজ্যের তপশিলি সম্প্রদায়ভুক্ত ছাত্র-ছাত্রী, শ্রমজীবী, মৎস্যজীবী, চর্মশিল্পী এবং হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই দাবিগুলি উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

স্মারকলিপিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয় যে, তপশিলি সম্প্রদায়ভুক্ত ছাত্র-ছাত্রীদের সকল স্তরের স্টাইপেন্ড ও স্কলারশিপ নির্দিষ্ট সময়ে প্রদান করতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ছাত্রাবাসের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন, নিয়মিত পরিচর্যা এবং প্রশাসনিক পরিদর্শনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে তপশিলি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের দাবিও জানানো হয়েছে।

এছাড়াও মৎস্যজীবী ও চর্মশিল্পীদের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের দাবি তোলা হয়। চর্মশিল্পীদের জন্য বিশেষ অনুদান এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক উপকরণ সরবরাহের বিষয়টিও স্মারকলিপিতে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে হরিজন সম্প্রদায়ের অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ, তাঁদের জন্য সরকারি আবাসনের উন্নত রক্ষণাবেক্ষণ এবং মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে জলাশয় হস্তান্তর করে তাঁদের জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

ডেপুটেশনে আরও দাবি জানানো হয়, তপশিলি সম্প্রদায়ের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করতে ড. বিআর আম্বেদকর মেধা পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। এর পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়।

ডেপুটেশন প্রদান শেষে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতর দাবিগুলিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তাঁরা বলেন, তপশিলি সম্প্রদায়ের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে ভবিষ্যতেও আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *