আগরতলা, ২৪ জুলাই: রাজধানী আগরতলায় এসি মেশিনের তামার তার চুরির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই এমন চুরির অভিযোগ সামনে আসছে। শুক্রবার খোশবাগান এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় তিনজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধৃত তিনজনই ভবঘুরে প্রকৃতির যুবক এবং তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। শুক্রবার সকালে খোশবাগান এলাকার বালাজি হেলথ কেয়ার ও কসমস হোটেলের এসি ইউনিট থেকে তামার তার কেটে চুরি করার সময় স্থানীয় যুবকরা তাঁদের ধরে ফেলেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের চুরি হওয়া সামগ্রীসহ থানায় নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েক সপ্তাহ ধরে একই কায়দায় একের পর এক তামার তার চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, ধৃত যুবকদের শরীরে একাধিক ইনজেকশনের দাগ রয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট তাঁরা শিরাপথে মাদক গ্রহণ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় চুরি হওয়া সামগ্রী যাদের কাছে বিক্রি করা হয়, তাঁদের মধ্যে একজনকেও ঘটনাস্থলে ডেকে আনা হয়েছিল।
পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে এলাকাবাসী বলেন, মাদকাসক্ত ও ছিচকে চোরদের আটক করা হলেও বেশিক্ষণ থানার লকআপে রাখা হয় না। কিছু সময় পরই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে যাওয়ায় তাঁরা ফের একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে এলাকায় চুরি ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও দাবি, রাজধানীর কয়েকটি দোকানে নিয়মিত এই চুরি করা তামার তার ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করা হয়। শুধু চোরদের গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; চোরাই মাল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত দোকান মালিক ও দালালদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
এলাকাবাসী পুলিশের কাছে দ্রুত ও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, চুরি ও মাদকচক্রের বিরুদ্ধে একযোগে অভিযান চালানো না হলে রাজধানীতে এই অপরাধ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

