পাঁচ নগর সংস্থায় প্রার্থী দিতে ব্যর্থ সিপিআইএম, সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই দায়ী করলেন বিজেপি সভাপতি

আগরতলা, ৭ নভেম্বর : আসন্ন পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিরোধী সিপিআইএম-এর নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করে এবার পাল্টা আক্রমণ শানালেন বিজেপি-র প্রদেশ সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের পাঁচটি নগর সংস্থায় সিপিআইএম প্রার্থী দিতে পারেনি। এর পেছনে মূল কারণ নিরাপত্তার অভাব নয়, বরং দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং প্রার্থী দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব। অথচ নিজেদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই বিজেপি-র বিরুদ্ধে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধীদের বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে এমনই সরব হন অভিষেক দেবরায়। তিনি দাবি করেন, মোহনপুর, কমলপুর, শান্তিরবাজার, জিরানিয়া এবং রানিরবাজার—এই পাঁচটি নগর সংস্থায় সিপিআইএম প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সত্ত্বেও যেখানে বিরোধীরা প্রার্থী দিতে পারছে না, সেখানে তার দায়ভার বিজেপি-র উপর চাপানোর কোনও যুক্তি নেই। বরং নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি কতটা দুর্বল হয়ে পড়েছে, সিপিআইএম-এর এই পরিস্থিতিই তার প্রমাণ।

এ প্রসঙ্গে তেলিয়ামুড়ার উদাহরণ তুলে ধরে বিজেপি প্রদেশ সভাপতি বলেন, সেখানে বাম প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে রিটার্নিং অফিসারের দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও তেলিয়ামুড়ার তিনটি ওয়ার্ডে সিপিআইএম প্রার্থী দিতে পারেনি। অন্যদিকে বিলোনিয়া, উদয়পুর, সোনামুড়া ও মেলাঘরসহ রাজ্যের একাধিক নগর সংস্থায় বামফ্রন্ট প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা পড়েছে। তাহলে কয়েকটি নির্দিষ্ট এলাকায় প্রার্থী না দেওয়ার জন্য নিরাপত্তাহীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অভিষেক দেবরায়ের বক্তব্য, যে সমস্ত এলাকায় সিপিআইএম প্রার্থী দিতে পারেনি, সেখানে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতাই প্রধান কারণ। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে হলে প্রথমে নিজেদের সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। কিন্তু সেই কাজ না করে বিজেপি-র বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তিনি কটাক্ষ করেন।

আগরতলার নির্বাচনী প্রচার প্রসঙ্গেও বামেদের নিশানা করেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, আগরতলায় বাম প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রচার চালালেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছেন না। মানুষ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিপিআইএমকে প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে তার দায়ভার বিজেপি কেন নেবে? ভোটারদের মনোভাবকে কোনও রাজনৈতিক দল জোর করে পরিবর্তন করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি বিজেপি মানুষের কাছে পরীক্ষিত দল এবং জনসমর্থনের ভিত্তিতেই দল এগিয়ে চলেছে বলে দাবি করেন অভিষেক।

এদিন রাজ্য বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দেকেও ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন বিজেপি প্রদেশ সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, মানিক দে নিজের নির্বাচনী এলাকা মজলিশপুরে না থেকে আগরতলার বড়দোয়ালিতে অবস্থান করছেন। নিজের নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। অভিষেকের মতে, মানিক দে যদি নিজের এলাকায় নিয়মিত থাকতেন এবং কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন, তাহলে বাম কর্মীরা অন্তত কিছুটা হলেও মনোবল ফিরে পেতেন।

সব মিলিয়ে, পুর ও নগর সংস্থা নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপি ও সিপিআইএম-এর মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে বিরোধীদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ, অন্যদিকে বিজেপি-র সাংগঠনিক দুর্বলতার পাল্টা দাবি—দুই শিবিরের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। ভোটের লড়াই শুরুর আগেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই রাজনৈতিক আবহ আগামী দিনে আরও কতটা তীব্র হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *