উত্তরপাড়া, ৭ নভেম্বর : নার্সিংহোমের শৌচাগারে সন্তান প্রসবের পর জানলা দিয়ে সদ্যোজাত শিশুকে নীচে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল বছর ষোলোর এক নাবালিকার বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে অমানবিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুগলির উত্তরপাড়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে তীব্র পেটে ব্যথা নিয়ে হাওড়ার বাসিন্দা ওই নাবালিকাকে উত্তরপাড়ার সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমে ভর্তি করান তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। পরিবারের দাবি, নাবালিকা যে সন্তানসম্ভবা ছিল, সে বিষয়ে তাঁরা একেবারেই অবগত ছিলেন না। কেবল সাধারণ পেটে ব্যথা ভেবেই তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। নার্সিংহোমের মালকিন তথা চিকিৎসক সুচেতা মুখোপাধ্যায়েরও একই দাবি; তিনিও জানান যে কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ভর্তির সময় তাঁদের জানানো হয়নি এবং তাঁদের কাছেও বিষয়টি অজানা ছিল।
শনিবার সকালে ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে স্থানীয়দের। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় যুবক সৌভিক দাস জানান, সকাল আটটা নাগাদ তিনি নার্সিংহোমের সংলগ্ন এলাকায় কাজ করছিলেন। আচমকাই ওপর থেকে ভারী কিছু একটা নীচে পড়ার তীব্র শব্দ পান তিনি। কৌতুহলী হয়ে দ্রুত কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছটফট করছে এক সদ্যোজাত। তাঁর দাবি, এই দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই নার্সিংহোম থেকে এক নার্স ছুটে নীচে নেমে আসেন এবং শিশুটিকে তুলে নিয়ে নার্সিংহোমের ভেতরে চলে যান। ঘটনার খবর চাউর হতেই নার্সিংহোম চত্বরে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের গুরুতর অভিযোগ, এর আগেও সংশ্লিষ্ট নার্সিংহোমের পেছন থেকে পরিত্যক্ত ভ্রূণ উদ্ধারের নজির রয়েছে। ফলে এই ঘটনার পেছনে কেবল নাবালিকার কৃতকর্ম নাকি কোনও অবৈধ গর্ভপাত বা বড়সড় চক্রের যোগসাজশ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে উত্তরপাড়া থানার তদন্তকারীরা। সদ্যোজাত শিশুটির শারীরিক অবস্থা এবং নাবালিকার বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে পুলিশ।

