উৎসবের মুখে রেলের ‘ওয়ার রুম’ পরিদর্শন অশ্বিনী বৈষ্ণবের

নয়াদিল্লি, ৭ নভেম্বর : দীপাবলি ও আসন্ন ছটপুজোর মরশুমে দেশজুড়ে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে এবং ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে রেল ভবনের সেন্ট্রাল ‘ওয়ার রুম’-এ গিয়ে সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিচালন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। উৎসবের চরম ব্যস্ততার মাঝেও যাত্রী পরিষেবা ও স্টেশন চত্বরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রেলওয়ের তরফে বহুমুখী ও আধুনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রেল ভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও প্রস্তুতি পর্যালোচনার পর শনিবার রেলমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপুজো, দীপাবলি এবং ছটপুজো নিয়ে গঠিত এই পুণ্য উৎসবের মরশুমটি ভারতীয় রেলওয়ের ক্ষেত্রে যাত্রী চলাচলের নিরিখে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ততম সময়। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে প্রায় ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বিশেষ ‘হোল্ডিং এরিয়া’ (যাত্রী প্রতীক্ষা চত্বর) তৈরি করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা তাঁদের নির্দিষ্ট ট্রেনের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যে অপেক্ষা করতে পারেন।”
পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের দিকটি তুলে ধরে মন্ত্রী আরও জানান, “যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মূল স্টেশন চত্বর থেকে টিকিট কাউন্টারগুলি সরিয়ে এই নতুন হোল্ডিং চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে, যাতে সহজেই যাত্রীরা টিকিট কাটতে পারেন। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ব্যাগেজ তল্লাশিতে সময় বাঁচাতে একাধিক স্ক্রিনিং কাউন্টার চালু করে সমান্তরাল প্রক্রিয়া (প্যারালাল প্রসেসিং) কার্যকর করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘ লাইনের কারণে স্টেশনের প্রবেশপথে কোনো জট না তৈরি হয়।”
ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিসংখ্যান তুলে ধরে অশ্বিনী বৈষ্ণব উল্লেখ করেন, “বিগত অর্থবর্ষে সব মিলিয়ে প্রায় ৭৫ হাজার বিশেষ ট্রেন চালানো হয়েছিল। চলতি অর্থবর্ষে সেই সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। বিশেষ করে বর্তমানের এই চরম উৎসবের মরশুমেই আমরা ১৮ হাজার স্পেশাল ট্রেন পরিষেবা চালু করেছি, যেখানে গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ১২ হাজার। এছাড়া স্টেশনে নজরদারি ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৭০০টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন (এআই) ক্যামেরা বসানো হয়েছে।”
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রেলের পূর্বপ্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “শাকুর বস্তি, হজরত নিজামুদ্দিন, আনন্দ বিহার, আনন্দ বিহার টার্মিনাল এবং নয়াদিল্লি স্টেশনের সংলগ্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইয়ার্ডে অতিরিক্ত স্পেশাল ট্রেন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আজ ছোট দীপাবলির মতো ব্যস্ত দিনেও দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আগামী দিনগুলিতেও উৎসবের পুরো মরশুমজুড়ে এই গতি ও স্বাভাবিকতা বজায় রাখাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।”

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *