ভোট প্রচারে গিয়ে আক্রান্ত বাম কর্মীরা, রডের আঘাতে মাথা ফাটল নেতার

আগরতলা, ৬ নভেম্বর : পুর ও নগর ভোটের প্রচারকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানী আগরতলা। বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচারে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হামলার মুখে পড়লেন সিপিআইএম কর্মী-সমর্থকরা। অভিযোগ, প্রচার বন্ধ করার হুমকি দেওয়ার পর ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল লাঠি ও রড নিয়ে তাঁদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বিমল শুক্লদাস নামে বাম নেতৃত্ব। তাঁর মাথায় রডের আঘাত লেগে ফেটে যায়। শুধু তাই নয়, হামলা থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেওয়া একাধিক বাড়িতেও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার আগরতলা পুর নিগমের ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত ডুকলির ঋষিপাড়া এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিআইএম মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা ঋষিপাড়া সংলগ্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি ভোট প্রচারে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় কয়েকজন তাঁদের প্রচার বন্ধ করার জন্য হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে আঁচ করে বাম কর্মীরা প্রচার কর্মসূচি বন্ধ করে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু অভিযোগ, তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রায় ২৫ – ৩০ জনের একটি দল লাঠি ও লোহার রড নিয়ে তাঁদের উপর হামলা চালায়।

আকস্মিক এই হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাম কর্মী-সমর্থকরা। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। অভিযোগ, হামলাকারীরা সেখানেই থেমে থাকেনি। এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় তারা। আতঙ্কে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

এদিকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঋষিপাড়া এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণ কমল ঋষিদাসের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন সিপিআইএম কর্মী বিমল শুক্লদাস। অভিযোগ, হামলাকারীরা ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর বিমল শুক্লদাসকে টেনেহিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে এনে বেধড়ক মারধর করা হয়। লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহত বিমল শুক্লদাসের অভিযোগ, হামলাকারীরা বিজেপির কর্মী-সমর্থক। শুক্রবার আইজিএম হাসপাতালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি গোটা ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।

পুর ও নগর নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার মুখে প্রচারকে কেন্দ্র করে এই ধরনের হামলার অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বাড়ি বাড়ি ভোট চাইতে গিয়ে যদি রাজনৈতিক কর্মীদের আক্রান্ত হতে হয় এবং আতঙ্কে সাধারণ মানুষকে নিজেদের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়, তাহলে নির্বাচনী পরিবেশ কতটা শান্তিপূর্ণ থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সিপিআইএম বিধায়ক রামু দাস, ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক নবারুণ দেব-সহ অন্যান্য বাম নেতৃত্ব। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মীদের উপর হামলা গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে এ ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।

সব মিলিয়ে পুর ও নগর ভোটের আবহে ঋষিপাড়ার এই হামলার ঘটনা নতুন করে নির্বাচনী নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। ভোটের লড়াই কি শেষ পর্যন্ত প্রচারের ময়দান ছাড়িয়ে সংঘাতের পথে এগোবে, এখন সেই আশঙ্কাই ঘনীভূত হচ্ছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *