বিরামপুরে রাস্তার ওপর রক্তাক্ত মৃতদেহ, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা

বক্সনগর, ৫ নভেম্বর  : সিপাহীজলা জেলার যাত্রাপুর পঞ্চায়েতের অধীন বিরামপুর এলাকায় রাস্তার ওপর থেকে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম বাবিহুর রহমান (৪২)। বুধবার গভীর রাতে এই মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় খুন নাকি সড়ক দুর্ঘটনা, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। মৃতের গলায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা নাগাদ বিরামপুর এলাকার একটি রাস্তার ওপর বাবিহুর রহমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। রাতের নিস্তব্ধতায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমতে শুরু করে। রাস্তার ওপর ওই ব্যক্তির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের নজরে আসে, মৃত ব্যক্তির গলায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই চিহ্নগুলি দেখে অনেকেরই সন্দেহ, এটি নিছক কোনও দুর্ঘটনা নয়। তাঁদের আশঙ্কা, রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা বাবিহুর রহমানকে খুন করে রাস্তার ওপর ফেলে রেখে যেতে পারে। তবে এই আশঙ্কার পক্ষে এখনও কোনও নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় যাত্রাপুর থানার পুলিশ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করা হয়েছে। কীভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারও কোনও বিবাদ বা সংঘর্ষ হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, নাকি কোনও সড়ক দুর্ঘটনার পর মৃত্যু হয়েছে, তা নির্ধারণ করতে তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। ঘটনায় অন্য কারও জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।

বাবিহুর রহমানের আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অন্যদিকে, বিরামপুর এলাকায় এই রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এখনও চাপা উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশের তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *