আট বছর পর বীরচন্দ্র মনুতে লাল পতাকার উপস্থিতি, শহিদ দিবস ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা

শান্তিরবাজার , ১২ অক্টোবর  : দীর্ঘ আট বছরের বিরতির পর দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বীরচন্দ্র মনু শহিদ প্রাঙ্গণে ফের লাল পতাকার উপস্থিতি। ১৯৮৮ সালের ১২ অক্টোবর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১১ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা দুই দেহরক্ষীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পালিত হলো শহিদ দিবস। এদিনের কর্মসূচিতে সিপিআই(এম) নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি এবং শহিদদের স্মরণে দলীয় উদ্যোগ দক্ষিণ ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার বীরচন্দ্র মনু শহিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত স্মরণ কর্মসূচিতে শহিদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মীরা। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম)-এর দক্ষিণ জেলা সম্পাদক তাপস দত্ত, প্রাক্তন এমডিসি তথা শহিদপুত্র পরীক্ষিত মুড়াসিং, মহকুমা সম্পাদক আশুতোষ দেবনাথ, জেলা কমিটির সদস্য জহর দেবনাথ-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মী-সমর্থকেরা।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালের ১২ অক্টোবর বীরচন্দ্র মনুতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে ১১ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং তাঁদের দুই দেহরক্ষীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি বহন করে আসছে বীরচন্দ্র মনুর শহিদ প্রাঙ্গণ। প্রতি বছর এই দিনটি নিহতদের স্মরণে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে ফিরে আসে। তবে দীর্ঘ আট বছর পর এদিন বামেদের পক্ষ থেকে শহিদ দিবস পালন এবং দলীয় কর্মীদের উপস্থিতি স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন পর বীরচন্দ্র মনুতে সিপিআই(এম)-এর এই কর্মসূচি কেবল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে এলাকার রাজনৈতিক সংগঠন ও জনসংযোগের প্রশ্নটিও জড়িয়ে রয়েছে। কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি আগামী দিনে এলাকায় বামেদের সাংগঠনিক তৎপরতা কতটা বাড়ে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও এদিনের কর্মসূচির ভিত্তিতে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় কোনও পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে পৌঁছনো এখনই সম্ভব নয়।

বীরচন্দ্র মনুর রাজনৈতিক ইতিহাস ও বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর বামেদের এই উপস্থিতি কি এলাকায় তাদের সাংগঠনিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির ইঙ্গিত, নাকি এটি শুধুই শহিদদের স্মরণে একটি কর্মসূচি—তা নিয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *