দক্ষিণ অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়ল ‘মুরাসু’, বাপাতলা ও গুন্টুরে তুমুল ঝড়-বৃষ্টি

ওঙ্গোল ও অমরাবতী, ৩ নভেম্বর : দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে শুরু হয়ে গেল তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র ল্যান্ডফল বা আছড়ে পড়ার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার সকালে প্রবল শক্তি নিয়ে অন্ধ্রের উপকূলীয় জেলা প্রকাশমের ওঙ্গোল সংলগ্ন কোঠাপটনম সৈকত এলাকায় আছড়ে পড়তে শুরু করে এই সাইক্লোন। ল্যান্ডফলের প্রভাব শুরু হতেই উপকূলজুড়ে শুরু হয়েছে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং চরম গতিসম্পন্ন বিধ্বংসী ঝোড়ো হাওয়া। কোঠাপটনম গ্রামের উপকূলে দানবীয় ঢেউ আছড়ে পড়ে সমুদ্র চরম উত্তাল আকার ধারণ করেছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’-র ল্যান্ডফলের প্রত্যক্ষ প্রভাবে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও প্রবল দুর্যোগ শুরু হয়েছে। বাপাতলার সুরিয়ালঙ্কা রোডের কাছে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির জেরে বড় গাছ উপড়ে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর জওয়ানরা গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার ও যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজে হাত লাগান।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গুন্টুর শহরেও শুরু হয়েছে একটানা ভারী বৃষ্টি ও তীব্র দমকা হাওয়া। ঝোড়ো বাতাসের দাপটে শহরের জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং একাধিক নিচু এলাকায় জল জমতে শুরু করেছে। ওঙ্গোলের কোঠাপটনম সৈকতে ল্যান্ডফলের মূল প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের তীব্র গর্জন ও দৃশ্যমানতা কমে গিয়ে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

উপকূলবর্তী জেলাগুলির ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে ইতিমধ্যেই নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফের একাধিক দল মোতায়েন রয়েছে। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না বেরোনোর কড়া পরামর্শ দিয়েছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *