খোয়াই আদালতের সমন অভিষেক-দোলা-কুণালদের, ২২ জুন সশরীরে হাজিরার নির্দেশ

আগরতলা, ১১ জুন: ত্রিপুরার খোয়াই জেলার একটি আদালত তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) একাধিক শীর্ষ নেতাকে সমন জারি করেছে। ২০২১ সালে খোয়াই থানায় পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং থানা চত্বরে ভাঙচুরের চেষ্টার অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন এবং নবনির্বাচিত বিধায়ক কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক নেতাকে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ জুন তাঁদের খোয়াই জেলা আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

খোয়াই জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার জানান, ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন কর্মীকে একটি নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতার করে পুলিশ আদালতে পেশ করে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খোয়াই থানায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, ওই সময় তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, কুণাল ঘোষ এবং তাঁদের সমর্থকরা থানায় গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং থানা চত্বরে ভাঙচুরের চেষ্টা চালান।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে খোয়াই থানার পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি খোয়াইয়ের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি খতিয়ে দেখে বিষয়টি আমলে নেয় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে।

সরকারি আইনজীবী জানান, মামলায় নাম থাকা তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই আইনি প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে তিনি মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পান। তবে তাঁর বাইরে বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া চলবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই অভিযুক্তদের উদ্দেশে সমন জারি করা হয়েছিল। সেই সমনের ভিত্তিতেই আগামী ২২ জুন তাঁদের সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত থেকে অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরায় সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ব্যাপক রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা রাজ্যে সফর করেন। সফর চলাকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিক্ষোভ এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। খোয়াই থানার এই ঘটনাও সেই সময়কার রাজনৈতিক টানাপোড়েনেরই একটি অংশ বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত।

তবে আদালতের এই সমন প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। মামলার পরবর্তী শুনানি এবং ২২ জুন অভিযুক্তদের আদালতে হাজিরার দিকে এখন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের নজর রয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *