আগরতলা, ৫ অক্টোবর : টিটিএএডিসির ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের ফলাফলকে ‘আশানুরূপ’ বলে অভিহিত করলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। একইসঙ্গে নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে কোথাও যাতে রাজনৈতিক সংঘাত বা সন্ত্রাসের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাহাড় ও সমতল নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়নের বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন গণনা কেন্দ্রে টিটিএএডিসির ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়। গণনার শুরু থেকেই বেশ কয়েকটি আসনে তিপ্রা মথার প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার খবর সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহার প্রতিক্রিয়া জানতে চান সাংবাদিকরা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভিলেজ কমিটির নির্বাচনের ফলাফল আশানুরূপ হয়েছে। এই ফলাফল রাজ্যের জন্য মঙ্গলজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, পাহাড় এবং সমতল—সর্বত্র মানুষ যাতে মিলেমিশে বসবাস করতে পারেন এবং একসঙ্গে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে সামিল হতে পারেন, সেটাই সরকারের লক্ষ্য। নির্বাচনের ফলাফলেও সেই ঐক্য ও উন্নয়নের বার্তা প্রতিফলিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে নির্বাচনী ফলাফলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়েও সতর্ক মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনও ধরনের সংঘাতই কাম্য নয়। সাধারণ মানুষ শান্তি চান। তাই নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে যাতে কোথাও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলিকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন সংঘাতের রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বুঝেশুনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে ক্যামেরা ব্যবহারের কারণে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহারের ঘটনা ঘটে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব ফলাফল কী হয়, তা পর্যবেক্ষণ করার পর পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে একদিকে ভিলেজ কমিটির ফলাফল ঘিরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা, অন্যদিকে জিবিপি হাসপাতালের নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান—দুই বিষয়েই এদিন নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

