আগরতলা, ৭ অক্টোবর : রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের স্বল্প ব্যয়ে রাজ্যের মধ্যেই চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এমবিবিএস, ডেন্টাল, নার্সিংয়ের পাশাপাশি এবার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাবিদ্যায় উচ্চশিক্ষার সুযোগও যুক্ত হল। আগরতলার রেন্টার্স কলোনীতে বুধবার ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও নেতাজী সুভাষ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় রাজ্যের ছেলেমেয়েদের চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করতে হলে বিপুল অর্থ ব্যয় করে রাজ্যের বাইরে যেতে হতো। রাজ্যের মধ্যেই মেডিক্যাল শিক্ষার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। বর্তমানে রাজ্যে একের পর এক মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এখন এমবিবিএস, ডেন্টাল, নার্সিং এবং বিএইচএমএস পড়ার সুযোগ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার ফলে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের সামনে চিকিৎসাবিদ্যায় পড়াশোনার আরও একটি নতুন দিগন্ত খুলে গেল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে রাজ্যে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনার সুযোগও তৈরি হবে। ইতিমধ্যে রাজ্যে আয়ুর্বেদিক হাসপাতাল চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ক্ষেত্রেও আরও মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে উঠবে বলে জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শিজা গ্রুপের উদ্যোগে রাজ্যে একটি অত্যাধুনিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মেডিক্যাল কলেজ ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো গড়ে উঠলে শুধু চিকিৎসা পরিষেবার মানই উন্নত হবে না, সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মানও আরও উন্নত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী দিনে ধলাই জেলাতেও একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করা হবে। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবা সহ উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রেই ত্রিপুরা বর্তমানে দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে উঠে এসেছে। নতুন নতুন স্বাস্থ্য পরিষেবা চালুর মাধ্যমে রাজ্য সরকার চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচন করছে।
সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার কাজের মাধ্যমেই মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে চায়। সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তা বাস্তবে রূপায়ণের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশিত পথ অনুসরণ করেই রাজ্য সরকার মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রাজ্যের উন্নয়নের জন্য শান্তি, সম্প্রীতি এবং সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার উপরও গুরুত্বারোপ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজ্যে শান্তি-সম্প্রীতি ও সঠিক আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ রয়েছে বলেই বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা ত্রিপুরার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সম্প্রতি রাজ্যে প্রায় ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকার বেসরকারি বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নবনির্মিত হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম ব্যাচের অংশ হওয়ার কারণে তাঁদের মধ্যে বিশেষ গর্ববোধ থাকা স্বাভাবিক। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমানে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাতেও বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। যেকোনও চিকিৎসাবিদ্যা ও চিকিৎসা পরিষেবায় দক্ষতা অর্জনের জন্য চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এগিয়ে যেতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে নিজেদের তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্যে। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় চিকিৎসা পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবাশ্রী দেববর্মা, ত্রিপুরা মেডিক্যাল এডুকেশনের ডিরেক্টর ডা. এইচ. পি. শর্মা, পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধ দপ্তরের অধিকর্তা ডা. অঞ্জন দাস সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা গভর্নমেন্ট হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও নেতাজী সুভাষ হোমিওপ্যাথিক হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডা. অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের শুরুতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার প্রবর্তক স্যামুয়েল হেনিম্যানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুখ্যমন্ত্রীসহ অন্যান্য অতিথিরা। নতুন এই প্রতিষ্ঠান চালুর মধ্য দিয়ে রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিসর আরও এক ধাপ সম্প্রসারিত হল।

