জিবিপি হাসপাতালে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ! ছবি-ভিডিওতেও হুঁশিয়ারি

আগরতলা, ৪ অক্টোবর  :  জিবিপি হাসপাতালে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ এবং ছবি ও ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি সাঁটানো হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর বা কোনও নির্দিষ্ট আধিকারিকের নাম না থাকায় তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিবিপি হাসপাতাল চত্বরে পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত। এরই মধ্যে সাংবাদিকদের মোবাইল নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ এবং ছবি ও ভিডিও ধারণের ওপর বিধিনিষেধের বার্তা সামনে আসায় নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। হাসপাতালের দেওয়ালে দেওয়ালে সাঁটানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ এবং হাসপাতাল চত্বরে ছবি ও ভিডিও ধারণ না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

জানা গেছে, জিবিপি হাসপাতালে কর্মরত এক সিনিয়র রেসিডেন্ট চিকিৎসককে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই অবস্থান। তবে আচমকা এই ধরনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, সংবাদমাধ্যমের কাজের ক্ষেত্রেও কি এবার বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে? হাসপাতালের মতো জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানে সংবাদ সংগ্রহ ও তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের কীভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে, তা নিয়েও নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে আসা একাধিক ব্যক্তি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তাদের বক্তব্য, কোনও অনিয়ম, অব্যবস্থা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সামনে এলে সংবাদকর্মীরাই তা জনসমক্ষে তুলে ধরেন। হাসপাতালের বিভিন্ন পরিষেবা, রোগী ও রোগীর পরিবারের সমস্যা কিংবা চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। ফলে সাংবাদিকদের ওপর একই বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে সাধারণ মানুষও প্রকৃত তথ্য জানা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

বিভিন্ন নাগরিকের অভিমত, হাসপাতালের নিরাপত্তা, রোগীর গোপনীয়তা এবং চিকিৎসা পরিষেবার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে সাধারণ মানুষের ছবি বা ভিডিও ধারণে বিধিনিষেধ থাকতেই পারে। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদেরও একই নিয়মের আওতায় নিয়ে আসা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, সংবাদমাধ্যমকে আলাদা করে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

এ বিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বিভিন্ন নাগরিক। তাঁদের আবেদন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করে সংবাদমাধ্যমের কাজের ক্ষেত্রে যেন অযথা প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মৃদু প্রতিবাদ জানিয়ে জনৈক ব্যক্তি বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের যৌক্তিকতা থাকতে পারে। বিশেষ করে রোগীর চিকিৎসা, গোপনীয়তা এবং হাসপাতালের পরিবেশের কথা মাথায় রেখে ছবি বা ভিডিও ধারণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তবে রোগীর সঙ্গে থাকা পেশেন্ট পার্টি এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা উচিত। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এদিকে, সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে জিবিপি হাসপাতালের রেসিডেন্ট চিকিৎসক এবং স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণার্থীদের সংগঠন রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে চার দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে বলে জানা গেছে। দাবিগুলি পূরণ না হলে আগামী ৫ অক্টোবর, সোমবার থেকে পেন ডাউন কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

ফলে একদিকে রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ক্ষোভ ও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে সাংবাদিকদের মোবাইল নিয়ে প্রবেশ এবং ছবি-ভিডিও ধারণে বিধিনিষেধ—দুই ঘটনাকে ঘিরেই জিবিপি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাঁটানো বিজ্ঞপ্তির আনুষ্ঠানিকতা, বিধিনিষেধের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ কীভাবে হবে, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *