আগরতলা, ১৭ সেপ্টেম্বর : আগরতলা রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ফেনসিডিল ও এসকাফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া চন্দন বর্মণ ওরফে চন্দন ওঝাকে জেরা করে তদন্তে অগ্রগতি পেয়েছে ত্রিপুরা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। বর্তমানে এনসিসি থানায় রেখে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ রিমান্ডে থাকা অভিযুক্তের কাছ থেকে নেশা কারবারের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই আগরতলা রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ এসকাফ সিরাপ ও ফেনসিডিল উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নেশাজাতীয় সামগ্রীর উৎস এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখতে পরবর্তীতে তদন্তভার গ্রহণ করে রাজ্য পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। তদন্তের সূত্র ধরেই সম্প্রতি কলকাতা থেকে চন্দন বর্মণ ওরফে চন্দন ওঝাকে গ্রেফতার করে আগরতলায় নিয়ে আসে তদন্তকারী দল।
আগরতলায় নিয়ে আসার পর আদালতের মাধ্যমে তাঁকে পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর থেকেই এনসিসি থানায় রেখে দফায় দফায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে নেশাজাতীয় সামগ্রীর সরবরাহ, পরিবহণ এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে জানা গেছে।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, জেরায় চন্দন বর্মণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেশা কারবারের নেটওয়ার্কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্পর্কে ধারণা পেয়েছে পুলিশ। তবে তদন্ত এখনও চলমান থাকায় এই মুহূর্তে উদ্ধার হওয়া তথ্য কিংবা সম্ভাব্য সহযোগীদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাইছে না ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
এদিকে, নেশা কারবারের সঙ্গে রাজ্যের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম জড়িয়ে থাকার বিষয়টিও বিভিন্ন মহলে চর্চায় এসেছে। তবে এ সংক্রান্ত কোনও তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি পুলিশ। ফলে তদন্তে কার কার নাম উঠে এসেছে, কিংবা তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, তদন্তকারী সংস্থার একটি সূত্রের দাবি, চন্দন বর্মণের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেশা কারবারের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন সন্দেহভাজনের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পরিচয়ও আপাতত গোপন রাখা হয়েছে।
ক্রাইম ব্রাঞ্চের এই তদন্তে আগামী দিনে আরও গ্রেফতার হতে পারে বলে পুলিশের একটি সূত্রের ইঙ্গিত। ফলে আগরতলা রেলস্টেশনকে কেন্দ্র করে সামনে আসা এই নেশা কারবারের জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর পিছনে আরও কারা রয়েছে, তা এখন তদন্তের পরবর্তী পর্যায়েই স্পষ্ট হবে।

