আগরতলা, ১৫ সেপ্টেম্বর : নৈশ টহলে বেরিয়ে চোরের একটি সক্রিয় গ্যাংয়ের তিন কট্টর সদস্যকে জালে তুলল আমতলি থানার পুলিশ। সোমবার রাতে বাইপাস রোড এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে তাঁদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে চুরি সংক্রান্ত একাধিক তথ্য পুলিশের হাতে আসে। ধৃতদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও বেশ কয়েকজন সহযোগীর নাম জানতে পেরেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃত তিন অভিযুক্তকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আমতলি থানা এলাকায় চুরি ও ডাকাতির বিরুদ্ধে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানো সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি পুরনো চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই অভিযানে একাধিক কুখ্যাত চোর ও ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে আমতলি থানার পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার নৈশ টহলে বের হয় আমতলি থানার পুলিশ। টহল চলাকালীন বাইপাস রোড এলাকায় কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পুলিশ তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে তদন্তে উঠে আসে, তাঁরা একটি সক্রিয় চোর চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এরপর তিনজনকেই গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, ধৃত তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগেও আমতলি থানা এবং আগরতলার আরও দুই থানা এলাকায় একাধিক চুরি কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের হাতে চক্রটির গতিবিধি সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে বলে জানা গেছে।
আমতলি থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি জানান, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে এই চক্রের বেশ কয়েকজন সহযোগীর নাম পাওয়া গেছে। তাঁদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই ওই সহযোগীদেরও গ্রেফতার করা হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশের এই অভিযানে এলাকায় সক্রিয় চোর চক্রের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা রুখতে নৈশ টহল এবং নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে চুরি সংক্রান্ত আরও একাধিক ঘটনার কিনারা হতে পারে বলেই মনে করছে তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা।

