আগরতলায় তিন কুখ্যাত চোর গ্রেফতার

আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর: রাজধানী আগরতলায় বিভিন্ন চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ির পুলিশ। সম্প্রতি লোটাস ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় একটি গাড়ি থেকে ৫৬ হাজার টাকা ও একটি চেক চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনার সঙ্গে আরও প্রায় আটজন জড়িত রয়েছে। তাদেরও গ্রেফতারের জন্য তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

সম্প্রতি মহারাজগঞ্জ বাজার সংলগ্ন লোটাস ক্লাব এলাকায় চাঞ্চল্যকর এই চুরির ঘটনাটি ঘটে। জানা যায়, একটি সংস্থার সেলসম্যান বিভিন্ন দোকানে পণ্য সরবরাহের কাজে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। পণ্য সরবরাহের কাজে তাঁকে সহযোগিতা করছিলেন সংস্থার গাড়িচালক। ওই সময় গাড়ির চালকের আসনে বিভিন্ন দোকান থেকে সংগ্রহ করা টাকা রাখা একটি ব্যাগ ছিল। ব্যাগের মধ্যে নগদ ৫৬ হাজার টাকা ছাড়াও একটি চেক ছিল বলে জানা গেছে।

সেলসম্যান ও গাড়িচালক নিয়মমাফিক বিভিন্ন দোকানে পণ্য সরবরাহ করে গাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু গাড়ির কাছে এসে তাঁরা দেখতে পান, চালকের আসনে রাখা টাকার ব্যাগটি উধাও। গাড়ির ভেতরে ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও ব্যাগটির কোনও সন্ধান মেলেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানিয়ে মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়িতে মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব পান মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ির ওসি দীপঙ্কর দেবনাথ। এরপর তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। তদন্তের সূত্র ধরে প্রথমে যোগেন্দ্রনগর এলাকার বাসিন্দা সাগর রায় নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতেই এই চুরির নেপথ্যে থাকা একটি বড়সড় চক্রের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে।

সাগরকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে রবিবার পুলিশ বিশাল সাহা এবং ঝুমন মিয়া নামে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করে। ফলে এই ঘটনায় মোট তিনজন বর্তমানে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় একটি সুসংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রে আরও প্রায় আটজনের নাম উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ৫৬ হাজার টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৪৬ হাজার টাকা এখনও উদ্ধার করা যায়নি। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া চেকটির বিষয়েও তদন্ত চালানো হচ্ছে।

মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ির ওসি দীপঙ্কর দেবনাথ জানিয়েছেন, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ধৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চক্রের অন্যান্য সদস্য এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত আরও চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ধৃত তিনজনই পুলিশের কাছে পরিচিত চোর হিসেবে চিহ্নিত। এর আগেও বিভিন্ন চুরির ঘটনায় তাঁরা পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে এবং জেল খেটেছে বলে দাবি পুলিশের। জেল থেকে বেরিয়ে ফের একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

তদন্তকারীদের দাবি, চক্রটির সদস্যরা বিভিন্ন কৌশলে রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলিতে ঘোরাফেরা করে এবং সুযোগ বুঝে চুরি ও ছিনতাই করে। চক্রটির কয়েকজন সদস্য রাস্তায় রাস্তায় পুরনো সামগ্রী সংগ্রহের নাম করে ঘোরাফেরা করে বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন এলাকার গতিবিধি নজরে রাখার অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে ধৃত তিনজনকে সোমবার রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে মহারাজগঞ্জ বাজার ফাঁড়ির পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির বাকি সদস্যদের হদিশ বের করার পাশাপাশি রাজধানীর সাম্প্রতিক আরও চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাঁদের যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *