রিহ্যাব সেন্টারে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ, চিকিৎসার পথে মৃত্যু

আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর: আগরতলায় রামনগরের বাসিন্দা তুহিন শুভ্র ভট্টাচার্য রিহ্যাব সেন্টার ‘স্বপ্না ফাউন্ডেশন’-এ সংঘটিত মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় তদন্তে নেমে রিহ্যাব সেন্টারের কর্ণধার শুভম বিশ্বাস-সহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে এনসিসি থানার পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। শনিবার তাঁদের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে তোলা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শনিবার এনসিসি থানার ওসি পরিতোষ দাস জানান, রিহ্যাব সেন্টারের ভিতরে তুহিন শুভ্র ভট্টাচার্যকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর মৃতের স্ত্রী সাধনা দাস ভট্টাচার্য গত ১৬ আগস্ট এনসিসি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ‘স্বপ্না ফাউন্ডেশন’-এর ভিতরেই তাঁর স্বামীকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একইসঙ্গে মৃতের ময়নাতদন্তের রিপোর্টও তদন্তকারীদের হাতে আসে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান ওসি পরিতোষ দাস।

গ্রেফতারদের মধ্যে রিহ্যাব সেন্টার ‘স্বপ্না ফাউন্ডেশন’-এর কর্ণধার শুভম বিশ্বাসও রয়েছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ, তুহিনকে কী কারণে মারধর করা হয়েছিল এবং মৃত্যুর সঙ্গে প্রত্যেক অভিযুক্তের ঠিক কী ভূমিকা ছিল—তা তদন্তের মাধ্যমেই আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, মামলাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এনসিসি থানার পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শনিবার আদালতে তাঁদের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর তদন্তকারীরা তাঁদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করবেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

রিহ্যাব সেন্টারের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ভিতরে এমন মৃত্যুর ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী—তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সেই বিষয়গুলিই এখন সামনে আসার অপেক্ষায়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *