আগরতলা, ২৯ আগস্ট : খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকশিত ভারত গড়ার স্বপ্নকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলতে যুবসমাজ ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। শনিবার জাতীয় ক্রীড়া দিবস উপলক্ষ্যে আগরতলায় বাধারঘাটস্থিত দশরথ দেব স্টেট স্পোর্টস কমপ্লেক্সে হকির জাদুকর মেজর ধ্যানচাঁদের আবক্ষ মূর্তি উন্মোচন করে এই আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিবছর ২৯ আগস্ট হকির কিংবদন্তি মেজর ধ্যানচাঁদের জন্মদিনটি দেশে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে পালিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবছরও দেশজুড়ে ‘খেলেগা ভারত, জিতেগা ভারত’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় ক্রীড়া দিবস উদযাপিত হচ্ছে। এরই অঙ্গ হিসেবে শনিবার ত্রিপুরাতেও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাধারঘাটের দশরথ দেব স্টেট স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, মেজর ধ্যানচাঁদের পুত্র তথা প্রাক্তন জাতীয় হকি খেলোয়াড় অশোক কুমার সিং, রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, স্থানীয় বিধায়ক মিনা রানী সরকার, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের সচিব তাপস রায়, অধিকর্তা এল. ডার্লং-সহ দফতরের আধিকারিক ও ক্রীড়াজগতের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে মেজর ধ্যানচাঁদের আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী। মূর্তি উন্মোচনের মধ্য দিয়ে কিংবদন্তি এই হকি খেলোয়াড়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তাঁর অসামান্য ক্রীড়া প্রতিভা ও দেশের জন্য অবদানের কথা স্মরণ করেন উপস্থিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা বলেন, খেলাধুলার সঙ্গে মানুষের একটি বিশেষ নস্টালজিক অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে। একজন মানুষকে দেখলেই অনেক সময় বোঝা যায় তিনি খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত কি না। তাঁর মতে, খেলাধুলা শুধুমাত্র শরীরচর্চা বা বিনোদনের মাধ্যম নয়, একজন মানুষের শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, মানসিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবছর সারা দেশে ‘খেলেগা ভারত, জিতেগা ভারত’ এই থিমকে সামনে রেখে জাতীয় ক্রীড়া দিবস পালিত হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র একটি স্লোগান নয়, বরং একটি সংকল্প। এই সংকল্পকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে খেলাধুলার সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত হতে হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খেলাধুলার মাধ্যমে দেশকে আরও শক্তিশালী ও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের যুবসমাজের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভার কোনও অভাব নেই। সঠিক প্রশিক্ষণ, সুযোগ ও পরিকাঠামো পেলে রাজ্য তথা দেশের যুবক-যুবতীরা আন্তর্জাতিক স্তরেও সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম। তাই প্রধানমন্ত্রী যে স্বপ্ন দেখেছেন, সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে যুবসমাজের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও এগিয়ে আসতে হবে বলে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শিশু ও যুবকদের শুধুমাত্র পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা প্রয়োজন। ক্রীড়াক্ষেত্রে সাফল্য যেমন দেশের সম্মান বাড়ায়, তেমনই একজন তরুণের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজর ধ্যানচাঁদের পুত্র অশোক কুমার সিং বলেন, তিনি নিজেও জাতীয় স্তরে হকি খেলেছেন। যে স্বপ্নকে সামনে রেখে রাজ্য ও দেশ এগিয়ে চলেছে, সেই স্বপ্ন সফল হওয়ার পথে রয়েছে। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, খেলাধুলার পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের আরও বেশি সুযোগ দিতে হবে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা গেলে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র আরও সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়ও। তিনি জাতীয় ক্রীড়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্যে খেলাধুলার প্রসার ও ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
উল্লেখ্য, মেজর ধ্যানচাঁদ ভারতীয় হকির ইতিহাসে এক কিংবদন্তি নাম। তাঁর অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী ও গোল করার দক্ষতার জন্য তিনি ‘হকির জাদুকর’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর জন্মদিনকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে পালন করার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াবিদদের প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহিত করার বার্তাও দেওয়া হয়।
বাধারঘাটে মেজর ধ্যানচাঁদের আবক্ষ মূর্তি স্থাপনের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরার ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর স্মৃতিকে আরও স্থায়ী করে রাখার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

