কলাছড়ায় বাড়িতে হামলা, মহিলাকে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ

সাব্রুম, ১৬ আগস্ট : দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার মনুবাজার থানার অন্তর্গত কলাছড়ায় জমি ও বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক পরিবারের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং জনৈক মহিলাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় স্থানীয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাছড়ার বাসিন্দা ও এলআইসি কর্মী মৃণাল সেনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী বিশ্বজিৎ দেবনাথ, তাঁর ভাই অভিজিৎ দেবনাথ এবং উত্তম দে-র বাড়ির সীমানা ও জমি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে মৃণাল সেনের বাড়ির একটি ফলনসহ কলাগাছ কেটে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা নাগাদ বিশ্বজিৎ দেবনাথ, অভিজিৎ দেবনাথ ও উত্তম দে মৃণাল সেনের বাড়িতে হামলা চালান। হামলাকারীরা বাড়ির দুটি গেট ভাঙচুর করেন এবং বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়েন বলে অভিযোগ।

মৃণাল সেনের স্ত্রী গীতা সেনের অভিযোগ, হামলার সময় তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি দেখে আশপাশের কয়েকজন প্রতিবেশী ঘটনাস্থলে এগিয়ে এলে তাঁদের উপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় অনাথ দাস নামে জনৈক প্রতিবেশী আহত হন।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনার গুরুত্ব সামনে আসার পর মৃণাল সেনের বড় মেয়ে তথা চিকিৎসক পারমিতা সেন কলকাতা থেকে সামাজিক মাধ্যমে পরিবারের নিরাপত্তা এবং ঘটনার ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। তাঁর এই আবেদন ঘিরেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

রবিবার সকালে প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক প্রভাত চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

পরে দুপুরে মৃণাল সেনের পরিবারের পক্ষ থেকে মনুবাজার থানায় তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্তে নামে। দক্ষিণ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন মজুমদার এবং সাব্রুম মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দীপ্তনু বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা আক্রান্ত পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

এদিকে, রবিবার বিকেলে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীও আক্রান্ত পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন এবং ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলাছড়া এলাকায় উত্তেজনা থাকায় পুলিশও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। সাব্রুম মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দীপ্তনু বিশ্বাস জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে হামলা, ভাঙচুর এবং মহিলাকে লাঞ্ছিত ও শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। পুলিশি তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *