রাস্তা নেই, সেতুও নেই—নদী পেরিয়েই জীবনযাপন সুবল সিং রবিচরণ পাড়ার মানুষের

মোহনপুর, ১৬ আগস্ট : পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার মোহনপুর মহকুমার হেজামারা ব্লকের অন্তর্গত সুবল সিং রবিচরণ পাড়ার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ যেন কাটছেই না। এলাকায় যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা নেই, নেই নদীর উপর একটি ন্যূনতম লোহার সেতুও। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করেই চলাচল করতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা এলেই তাঁদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। নদীতে জল বাড়লে পারাপার আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তবুও প্রয়োজনের তাগিদে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, কৃষক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে নদীতে নেমেই যাতায়াত করতে হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, রোগীদেরও একইভাবে নদী পার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয়। কোনও রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় এমন কোনও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই যার মাধ্যমে সহজে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছতে পারে। একইভাবে অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দমকলের গাড়িও এলাকায় প্রবেশ করতে পারে না।

বাসিন্দাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর, জনপ্রতিনিধি, বিধায়ক এবং এমডিসি-র কাছে একাধিকবার সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে রাস্তা ও নদীর উপর সেতু নির্মাণের আশ্বাসও মিলেছে বলে তাঁদের দাবি। কিন্তু অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এলাকার মানুষের প্রশ্ন, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগে একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার মানুষকে কেন এখনও নদীতে নেমে যাতায়াত করতে হবে? বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও রোগীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত একটি স্থায়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সুবল সিং রবিচরণ পাড়ার বাসিন্দারা সরকারের কাছে অবিলম্বে এলাকায় একটি চলাচলযোগ্য রাস্তা নির্মাণ এবং নদীর উপর একটি সেতু স্থাপনের জোর আবেদন জানান। তাঁদের বক্তব্য, প্রতিশ্রুতি নয়, এবার তাঁরা সমস্যার বাস্তব সমাধান চান। দ্রুত রাস্তা ও সেতু নির্মাণ হলে শুধু দৈনন্দিন যাতায়াতের সমস্যাই মিটবে না, জরুরি পরিষেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং এলাকার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *