মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ত্রিপুরায় চালু হল ‘যোদ্ধা’ পোর্টাল

আগরতলা, ১৫ জুলাই : রাজ্যে মাদক পাচার, নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  এখন থেকে সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন অভিযোগ ও তথ্য জানাতে পারবেন একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে।  অভিযোগকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

বুধবার অনুষ্ঠিত ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচিতে উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলা শাসক এবং তাঁর প্রশাসনিক দল এই বিশেষ পোর্টাল চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করে।  মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা পোর্টালটির নামকরণ করেন ‘যোদ্ধা’ এবং আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন।

এদিন আগরতলার ত্রিপুরা ইনফরমেশন অ্যান্ড কালচার দফতরের সভাকক্ষে ভার্চুয়াল মাধ্যমে উত্তর ত্রিপুরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।  এই অনুষ্ঠানেই ‘যোদ্ধা’ পোর্টালের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পোর্টালটির মাধ্যমে মাদকদ্রব্য পাচার, অবৈধ মাদক ব্যবসা, কোনও ব্যক্তি নেশায় আসক্ত কিনা, কোথাও বাল্যবিবাহ সংঘটিত হচ্ছে কিনা কিংবা আইনশৃঙ্খলার অবনতি, বিদ্যুৎ সমস্যা-সহ বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে সাধারণ মানুষ সরাসরি অভিযোগ বা তথ্য জানাতে পারবেন।  প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই পোর্টালটি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। মানুষ নির্ভয়ে তাঁদের অভিযোগ ও তথ্য জানাতে পারবেন। অভিযোগকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে, ফলে তাঁরা কোনও ধরনের ভয় বা সংকোচ ছাড়াই প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে পারবেন।” তিনি আরও বলেন, “যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য জেলার জেলাশাসকদেরও ‘যোদ্ধা’ পোর্টালের আদলে একই ধরনের ব্যবস্থা চালু করার জন্য বলা হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে এখন পর্যন্ত মোট ৬৮টি ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।  তবে বুধবার থেকে প্রথমবারের মতো জেলা ভিত্তিক ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে।  এদিন ধলাই এবং উত্তর ত্রিপুরা জেলায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই কর্মসূচি চালু হয়।

দূরবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই জেলা ভিত্তিক এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।  তাঁর কথায়, “রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ যাতে সহজেই প্রশাসনের কাছে তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

প্রশাসনের মতে, ‘যোদ্ধা’ পোর্টাল রাজ্যে মাদকবিরোধী অভিযান, সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনঅভিযোগ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।  পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমাজকে আরও নিরাপদ ও সচেতন করে তোলার ক্ষেত্রেও এই পোর্টাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *