রাধানগরে মোটর শ্রমিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি, ভোগান্তিতে নিত্যযাত্রীরা

আগরতলা, ১১ জুলাই : আগরতলায় রাধানগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীবাহী গাড়ির চালকদের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকেই কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে আগরতলা-খোয়াই সড়কপথের পরিবহন ব্যবস্থা। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ছোট, মাঝারি ও বড় যাত্রীবাহী গাড়ির চালক ও মালিকরা কর্মবিরতিতে সামিল হওয়ায় ওই রুটে সমস্ত যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, ৯ জুলাই রাধানগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন ছোট ইলেকট্রিক গাড়িচালক যাত্রীবাহী বড় গাড়ির চালকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, যাত্রীবোঝাই গাড়ি মাঝপথে থামিয়ে চালকদের বেধড়ক মারধর করা হয়। শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা চালকদের ধাওয়া করতে করতে তোলাবাগান চৌমুহনী পর্যন্ত নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই হামলায় অন্তত ১১ জন চালক আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের আগরতলায় জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। আহত চালকদের সহকর্মীদের দাবি, এ ধরনের ঘটনা পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করেছে।

ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকেই আগরতলা-খোয়াই রুটে পরিবহন পরিষেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রী, চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রী, ব্যবসায়ীসহ জরুরি কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ। অনেকেই বাসস্ট্যান্ডে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেও গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য কোনও যানবাহন পাননি। বিকল্প পরিবহনের অভাবে যাত্রীদের অনেককে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা অন্যান্য উপায়ে যাতায়াত করতে হয়েছে।

পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সাগর দাস অভিযোগ করেন, ৯ জুলাইয়ের হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। তাঁর বক্তব্য, “চালকদের উপর এ ধরনের হামলা শুধু শ্রমিকদের নিরাপত্তাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেনি, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদি রাস্তায় চালকরাই নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?”

তিনি আরও বলেন, হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় এই কর্মবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে যাওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাধানগর ও সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, প্রশাসন যদি দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার ধারণ করতে পারে।

তবে এই ঘটনার অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন কিংবা অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *