শিববাড়ি পুকুরের সৌন্দর্যায়নে নতুন রূপ আগরতলার, উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা

আগরতলা, ১১ জুলাই  : আগরতলার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট্রাল রোড এলাকার শিববাড়ি পুকুরের পুনরুজ্জীবন ও সৌন্দর্যায়ন প্রকল্প বর্তমান সরকারের উন্নয়নমুখী কর্মযজ্ঞ এবং উন্নত নাগরিক পরিষেবা প্রদানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। শনিবার “অদ্ভুত ২.০” প্রকল্পের আওতায় শিববাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন নাগরিকদের জন্য পরিচ্ছন্ন, নান্দনিক ও ধর্মীয় পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে, তেমনি ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নকে কেবলমাত্র পরিকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি। উন্নত নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার। শিববাড়ি পুকুরের উন্নয়ন সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকাটি এখন নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন এবং ভব্য পরিবেশে রূপান্তরিত হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দা, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পর্যটন কেন্দ্রগুলির পাশাপাশি ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সোমনাথ মন্দিরের উন্নয়ন থেকে শুরু করে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী মাতাবাড়ি তথা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের নব রূপদান—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক মানুষেরই সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সুসংগঠিত পরিবেশে বসবাসের আকাঙ্ক্ষা থাকে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার উন্নত নাগরিক পরিষেবা প্রদানে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে। রাজ্যের উন্নয়ন এবং বিশেষ করে আগরতলা শহরের পরিবর্তন আজ দেশব্যাপী সমাদৃত হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতীতে যারা এই শিববাড়ি পুকুর ও আশপাশের পরিবেশ দেখেছেন, তাঁরা বর্তমানে আমূল পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করবেন। বর্তমান সরকার ইতিবাচক ও মূল্যবোধভিত্তিক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী। তাই সরকার ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির উন্নয়নের পাশাপাশি সেগুলির পবিত্রতা, মর্যাদা এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণেও দায়বদ্ধ।

রাজ্যের নগর উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৯ সাল থেকে আগরতলা শহরের প্রায় ২৪টি পুকুর, জলাশয় ও লেকের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নের জন্য প্রায় ১৩৭ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (আরবান), আগরতলা স্মার্ট সিটি মিশন, টুডা-র বিভিন্ন আবাসন প্রকল্প, আধুনিক জল সরবরাহ ব্যবস্থা, নগর পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বিভিন্ন নাগরিকমুখী প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগরতলা শহর নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতেও আরও পুকুর ও জলাশয়ের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যায়নের কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের বর্তমান সরকার উন্নত নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় থাকা শিববাড়ি পুকুর আজ নতুন রূপ পেয়েছে। একইভাবে আগরতলা শহরের বিভিন্ন পুকুর ও জলাশয়ের সংস্কার, পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। স্বচ্ছতা, পরিকল্পনা এবং জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই বর্তমান সরকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা জল বোর্ডের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক মিহিরকান্তি গোপ। ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন কর্পোরেটর রত্না দত্ত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, নগর উন্নয়ন দফতরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে, আগরতলা পুরনিগমের কমিশনার সাজু বাহিদ এ এবং পুরনিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্পোরেটররা।

উল্লেখ্য, “অদ্ভুত ২.০” প্রকল্পের আওতায় শিববাড়ি পুকুরের পুনরুজ্জীবন ও সৌন্দর্যায়নের কাজে মোট ২ কোটি ৫৪ লক্ষ ৮৭ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পের অধীনে পুকুরের দূষিত জল নিষ্কাশন, পলি অপসারণ ও খনন, রিটেইনিং ওয়াল ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, ওরনামেন্টাল গ্রিল স্থাপন, সবুজায়ন, ঘাট নির্মাণ, হাঁটার পথ, নিকাশি ব্যবস্থা, বসার স্থান এবং আধুনিক আলোকসজ্জাসহ একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে শিববাড়ি পুকুর কেবল একটি ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেনি, বরং আগরতলা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের জন্য একটি উন্নত ও মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *