কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসার তীব্র নিন্দা যুব কংগ্রেসের

আগরতলা, ৪ জুলাই : কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসাসূচক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়েছে ত্রিপুরা প্রদেশ যুব কংগ্রেস। শনিবার আগরতলার কংগ্রেস ভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ যুব কংগ্রেস সভাপতি নীল কমল সাহা বলেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশের লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রীর প্রশংসা করছে।

নীল কমল সাহা অভিযোগ করেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশের ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনার জেরে বহু শিক্ষার্থী চরম মানসিক চাপে পড়েছে এবং ইতোমধ্যে ১২ জন ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। দিল্লিতেও তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচি চলছে।

তিনি আরও বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিদেশ সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন্দ্রীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়নে ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন তিনি খুব ভালো কাজ করছেন। যুব কংগ্রেসের মতে, দেশের শিক্ষার্থীরা যখন প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং ছাত্রসমাজের প্রতি অবমাননাকর। প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্যের মাধ্যমে ব্যর্থ শিক্ষা ব্যবস্থাকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন নীল কমল সাহা।

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তীও বক্তব্য রাখেন। তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালগুলিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। বহু হাসপাতালে রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে সরকারের দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির বিস্তর ফারাক রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে যুব কংগ্রেস নেতৃত্ব নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রীর নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—উভয় ক্ষেত্রেই সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *