আগরতলা, ২ জুলাই : মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে ত্রিপুরা সরকার ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালিয়ে সাফল্য অর্জন করছে। তবে কেবল আইন প্রয়োগ করে নয়, যুবসমাজকে খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করেই স্থায়ীভাবে নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাই “নেশা মুক্তির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার খেলার মাঠ”—এই বার্তাই তুলে ধরলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়।
মাদক দ্রব্যের অপব্যবহার এবং অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার আগরতলা টাউন হলে সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন ঝর্ণা দেববর্মা, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক ডাঃ বিশাল কুমার, শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন জয়ন্তী দেববর্মা-সহ বিশিষ্ট অতিথিরা। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, নেশামুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বিশ্রামগঞ্জে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক নেশামুক্তি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি রাজ্যের প্রতিটি জেলায় ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি করে নেশামুক্তি হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, রাজ্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এর ফলেই ত্রিপুরা পুলিশের অ্যান্টি নার্কোটিক্স সেলের সাফল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১,৬০০ কোটি টাকায়। গত তিন বছরে এনডিপিএস আইনে এক হাজারেরও বেশি মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৫ লক্ষেরও বেশি গাঁজা গাছ ধ্বংস করেছে। সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগ ও পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে তিনি দাবি করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, একসময় ত্রিপুরা মাদক পাচারের করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজ্যের একাংশের যুবসমাজই মাদকের ভোক্তায় পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়, সামাজিক উদ্যোগও জরুরি।
তিনি বলেন, “নেশা মুক্তির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার খেলার মাঠ। ছেলে-মেয়েরা যত বেশি খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকবে, তত বেশি তাঁরা মাদক থেকে দূরে থাকবে এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়ে উঠবে।” এ জন্য তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের নিয়মিত খেলাধুলা ও বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়ে মাদকের কুফল ও প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজে মাদকবিরোধী সচেতনতা আরও জোরদার করার বার্তা দেওয়া হয়।

