ত্রিপুরা বিধানসভার প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অটুট রাখার অঙ্গীকার

আগরতলা, ১ জুলাই: প্রতিষ্ঠা দিবসে গৌরবময় অতীতকে স্মরণ করে বর্তমানকে মূল্যায়ন এবং আরও সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণের অঙ্গীকার করল ত্রিপুরা বিধানসভা। বুধবার বিধানসভা ভবনে আয়োজিত প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু, বিধানসভার অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া, মন্ত্রী, বিরোধী দলনেতা , বিধায়ক -সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় রাজ্যপালের প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে। এরপর প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সভায় বক্তারা ত্রিপুরা বিধানসভার দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং জনমুখী ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

রাজ্যপাল ইন্দ্র সেনা রেড্ডি নাল্লু তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিধানসভা শুধু আইন প্রণয়নের ক্ষেত্র নয়, এটি গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তিনি বলেন, বিধানসভার সদস্যরা একে অপরের পরিপূরক এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তাঁদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। উন্নত ও বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তুলতে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সকল বিধায়কের সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

পরিষদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, ত্রিপুরার গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় ১ জুলাই একটি ঐতিহাসিক দিন। এই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রাজ্যের সাংবিধানিক বিকাশ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা এবং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ত্রিপুরা বিধানসভা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সাংবিধানিক আদর্শ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ধারক ও বাহক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের উন্নয়নের পথ সুগম করার আহ্বানও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং তিপ্রা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মাও বক্তব্য রাখেন। তাঁরা গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে জনস্বার্থে আইন প্রণয়ন এবং বিধানসভার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে রাজ্য বিধানসভার প্রাক্তন কর্মচারী ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত নরেশ চন্দ্র দেববর্মাকে বিশেষ সংবর্ধনা জানানো হয়। তাঁর সাহিত্য ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ১৫ অক্টোবর সংযুক্তিকরণ চুক্তির মাধ্যমে ত্রিপুরা ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রথমদিকে রাজ্যটি ‘সি’ ক্যাটাগরির রাজ্য হিসেবে পরিচালিত হতো। পরবর্তীকালে ১৯৬৩ সালের ১ জুলাই ত্রিপুরায় প্রথম বিধানসভার আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেই সময় বিধানসভার সদস্য সংখ্যা ছিল ৩০ এবং প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শচীন্দ্র লাল সিং। এরপর ১৯৭২ সালের ২১ জানুয়ারি ত্রিপুরা পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা লাভ করে। দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ত্রিপুরা বিধানসভা রাজ্যের গণতান্ত্রিক বিকাশ ও জনকল্যাণমূলক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *