আগরতলা, ৩০ জুন: রাজধানী আগরতলায় বটতলা এলাকায় হাওড়া নদী থেকে গাঙ্গাইল রোডের বাসিন্দা রমজান আলী ওরফে টিটনের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যেই দু’জনকে আটক করেছে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান থানার ওসি রানা চ্যাটার্জি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সকালে গাঙ্গাইল-বটতলা সংলগ্ন হাওড়া নদীর পাড়ে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা রক্তের দাগ দেখতে পান। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ। নদীর পাড়ে ছড়িয়ে থাকা রক্তের চিহ্ন অনুসরণ করে তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়, নদীতে কোনও মৃতদেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে।
এরপর দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীদের তলব করা হয়। দীর্ঘ তল্লাশি চালানোর পর হাওড়া নদী থেকে উদ্ধার করা হয় জনৈক ব্যক্তির রক্তাক্ত মৃতদেহ। পরে মৃতের পরিচয় নিশ্চিত হয় গাঙ্গাইল রোড এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী ওরফে টিটন হিসেবে, যিনি আগের রাত থেকেই নিখোঁজ ছিলেন।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং মৃতদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখে শুরু থেকেই ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে পায় তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে দু’জনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ আধিকারিক রানা চ্যাটার্জি জানান, আটক দুই ব্যক্তিকে বুধবার আদালতে তোলা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের পরিচয়, ঘটনার সঙ্গে তাঁদের নির্দিষ্ট ভূমিকা কিংবা হত্যার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য, ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং কীভাবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সেই সমস্ত বিষয় পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তদন্তকারীরা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজও অব্যাহত রেখেছেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার আদালতে অভিযুক্তদের পেশ করার পর তাদের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে। তদন্তকারী আধিকারিকদের আশা, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উন্মোচিত হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্ত জোরকদমে চলছে। শহরের বুকে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতির দিকেই এখন নজর প্রশাসন ও শহরবাসীর।

