মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ফুটপাত দখলমুক্তি, পুনর্বাসনের বার্তা আগরতলার মেয়রের

আগরতলা, ৩০ জুন : রাজধানী আগরতলা শহরের মন্ত্রীবাড়ি রোড এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টি রাজ্য সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। মঙ্গলবার পোস্ট অফিস চৌমুহনী থেকে নেতাজি চৌমুহনী পর্যন্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর ভাবনায় রয়েছে এবং সরকার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই বিষয়টি দেখছে।

এদিন মেয়রের সঙ্গে পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন মেয়র-ইন-কাউন্সিলর রত্না দত্তসহ আগরতলা পুর নিগমের অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকরা। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট এলাকার যান চলাচল, ফুটপাতের অবস্থা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং দখলমুক্ত হওয়া অংশ ঘুরে দেখা হয়।

মেয়র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রীবাড়ি রোডের ফুটপাতে অস্থায়ী দোকানপাট গড়ে ওঠায় পথচারীদের চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছিল। পাশাপাশি এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল এবং নিকাশি ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আগরতলা পুর নিগম ফুটপাত দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

তিনি জানান, পুর নিগমের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে অধিকাংশ ব্যবসায়ী স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তাঁদের দোকানপাট সরিয়ে নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও সরকার সমানভাবে সচেতন। তাঁদের জন্য বিকল্প স্থানের ব্যবস্থা করার সম্ভাবনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও ভাবছেন। সরকার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে এবং যতটা সম্ভব পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, শহরকে পরিকল্পিত, যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুরনিগম ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবিকা ও স্বার্থের প্রতিও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই কারণেই দখলমুক্তকরণের পাশাপাশি পুনর্বাসনের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মেয়রের এই আশ্বাসে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন তাঁদের নজর সরকারের পুনর্বাসন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *