বিকশিত ভারত গঠনে অঙ্গনওয়াড়ির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী

আগরতলা, ২৯ জুন: রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় সোমবার রাজ্য অতিথিশালার মিলনায়তনে সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন, অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী, সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়, চাইল্ড রাইট কমিশনের চেয়ারম্যান জয়ন্তী দেববর্মা, রাজ্য মহিলা কমিশনের ভাইস চেয়ারপার্সন মধুমিতা চক্রবর্তী, মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব অজিত কুমার, সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব তপন কুমার দাস, বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।

সভায় সক্ষম অঙ্গনওয়াড়ি ও পোষণ ২.০, পিএম জনমন, মুখ্যমন্ত্রী পুষ্টি উপহার, মুখ্যমন্ত্রী বালিকা সমৃদ্ধি যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী পোষণ অভিযান, মিশন শক্তি, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও, চাইল্ড ম্যারেজ প্রতিরোধ, মুখ্যমন্ত্রী কন্যা বিবাহ যোজনা এবং বাৎসল্য মিশন-সহ একাধিক প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন নির্মীয়মাণ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পর্যালোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০৪৭ সালের মধ্যে “বিকশিত ভারত” গঠনের লক্ষ্য নিয়ে দেশ এগিয়ে চলেছে। “এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত” গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি নাগরিককে অংশীদার হতে হবে। তিনি বলেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের ভিত্তি গড়ে ওঠে শিশুদের সঠিক পরিচর্যা ও পুষ্টির মাধ্যমে, আর সেই কাজের সূচনা হয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকেই। তাই অঙ্গনওয়াড়ি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ ও মাদকাসক্তি দেশের সামাজিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা। এই দুই সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে। তিনি জানান, দেশজুড়ে বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

অন্নপূর্ণা দেবী আরও বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সরকারের পরিকল্পনা ও প্রকল্পগুলি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে এবং বিকশিত, সমৃদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ ভারত গঠনের লক্ষ্য পূরণ হবে।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা মেনেই রাজ্য সরকার বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। রক্তদান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী প্রচারসহ নানা বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভার শেষে বিভিন্ন জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা নিজ নিজ জেলার প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং প্রকল্পগুলির কার্যকর বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। সরকার জনমুখী প্রকল্পগুলির সুফল সমাজের প্রতিটি প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *