আগরতলা, ২৭ জুন : ত্রিপুরা স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক লিমিটেডের কর্মীরাই নিজেদের বেতন এই ব্যাঙ্ক থেকে উত্তোলন করছেন না। এমন পরিস্থিতিতে গভীর অসন্তোষ ও হতাশা প্রকাশ করলেন সমবায় দফতরের মন্ত্রী শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া। শনিবার আগরতলায় নজরুল কলাক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত ত্রিপুরা স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ প্রসঙ্গে সরব হন।
মন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের প্রচার ও প্রসারে কর্মীদেরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক কর্মী নিজেদের বেতনও এই ব্যাঙ্কের মাধ্যমে গ্রহণ করছেন না। এতে ব্যাঙ্কের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, “ব্যাঙ্কের কর্মীরা সমবায় পরিবারের সদস্য। তারাই যদি নিজেদের বেতন এই ব্যাঙ্ক থেকে না তোলেন, তাহলে সাধারণ মানুষকে কীভাবে এই ব্যাঙ্কের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব?” কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান এবং ব্যাঙ্কের প্রতি নিজেদের আস্থা প্রদর্শনের অনুরোধ করেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী মাস থেকেই তিনি ত্রিপুরা স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে থাকা নিজের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তাঁর সম্মানী গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে তিনি অন্যদের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে চান বলে উল্লেখ করেন।
সমবায় আন্দোলনের গুরুত্ব তুলে ধরে শুক্লা চরণ নোয়াতিয়া বলেন, “সরকারের সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হল সমবায় আন্দোলন। সাধারণ মানুষ, কৃষক ও গ্রামীণ সমাজকে এই আন্দোলনের সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত করতে হবে। সমবায় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা গেলে রাজ্যের অর্থনীতিও আরও মজবুত হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। এই অগ্রগতির ক্ষেত্রে ত্রিপুরা এবং রাজ্যের সমবায় দফতরেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। তিনি ত্রিপুরা স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাংঙ্ক লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সভায় ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিরা, সমবায় ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ব্যাঙ্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

