আগরতলা, ২৪ জুন : জিবিপি হাসপাতাল তথা আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ (এজিএমসি)-র ফ্যাকাল্টি ও চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের বিষয়ে রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক প্রদীপ ভৌমিক। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে চিকিৎসা শিক্ষা, রোগী পরিষেবা এবং গবেষণামূলক কাজের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে জিবিপি হাসপাতাল ও এজিএমসি-র কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং ফ্যাকাল্টিদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের আশঙ্কা, এর ফলে হাসপাতালের পরিষেবার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, অনেকেই মনে করছেন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ডাঃ প্রদীপ ভৌমিক বলেন, “রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবিক অর্থেই প্রশংসার দাবি রাখে। এজিএমসি প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই আমরা অনেক চিকিৎসক প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছিলাম। কিন্তু তৎকালীন সরকার এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।”
তিনি জানান, প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ হলে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন। এর ফলে একদিকে যেমন ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানের মান উন্নত হবে, তেমনি রোগীদের প্রতিও চিকিৎসকদের নজরদারি ও যত্ন বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্যও চিকিৎসকদের অধিক সময় ও সুযোগ তৈরি হবে।
ডাঃ ভৌমিকের মতে, গত দুই দশকে জিবিপি হাসপাতাল ও আগরতলা গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা পরিষেবার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। বর্তমানে বিভিন্ন বিভাগে সুপার-স্পেশালিটি পরিষেবা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের সম্পূর্ণ মনোযোগ সরকারি পরিষেবার দিকে কেন্দ্রীভূত হলে হাসপাতালের কাজের গুণগত মান আরও বৃদ্ধি পাবে।
তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রাইভেট প্র্যাকটিস থেকে চিকিৎসকরা খুব বেশি আর্থিক সুবিধা লাভ করেন না। অনেক ক্ষেত্রেই মানবিক কারণে চিকিৎসকরা পারিশ্রমিক ছাড়াই রোগী দেখেন। তাঁর কথায়, “টাকা উপার্জন করাই চিকিৎসকদের প্রধান লক্ষ্য নয়। মানুষের চিকিৎসা ও সেবা প্রদান করাই একজন চিকিৎসকের মূল ব্রত।”
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও চিকিৎসা মহলের একাংশের মতে, যথাযথ বাস্তবায়ন হলে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়নে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে।

