মোহনপুর, ২১ জুন: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে রবিবার মোহনপুর বিধানসভা এলাকার তুলাবাগানস্থিত সিন্থেটিক ফুটবল মাঠে বিজেপি মোহনপুর মণ্ডলের উদ্যোগে যোগ ও শরীরচর্চা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক রতনলাল নাথ। তাঁর সঙ্গে যোগ দেন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃত্ব, কর্মী-সমর্থক, ছাত্র-যুব প্রতিনিধি এবং এলাকার অসংখ্য সাধারণ মানুষ।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শরীরচর্চা, যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন বয়সের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে যোগাভ্যাস করেন এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা ছড়িয়ে দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায় আজ যোগব্যায়াম বিশ্বব্যাপী এক গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে। ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ যোগ আজ বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস এখন শুধু ভারতের নয়, সমগ্র বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কর্মসূচি।
মন্ত্রী আরও বলেন, “আজ সারা পৃথিবীর পাশাপাশি মোহনপুর এবং ত্রিপুরার প্রতিটি মণ্ডলেও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত হয়েছে। মোহনপুর মণ্ডলের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন এবং ছাত্র-যুব প্রতিনিধিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।”
তিনি যোগের উপকারিতা তুলে ধরে বলেন, যোগ কেবল শরীরচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করার এক কার্যকর পদ্ধতি। নিয়মিত যোগাভ্যাস মানুষের মনকে শান্ত রাখে, শরীরকে সুস্থ রাখে এবং জীবনে ইতিবাচকতা বৃদ্ধি করে। বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় সুস্থ ও সুষম জীবন গঠনে যোগের গুরুত্ব অপরিসীম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সকলকে নিয়মিত যোগাভ্যাস করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সুস্থ শরীর, শান্ত মন ও শক্তিশালী সমাজ গঠনের জন্য প্রত্যেকের জীবনে যোগকে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। আসুন, আমরা সকলে নিয়মিত যোগাভ্যাসের মাধ্যমে নিজেদের সুস্থ, সচেতন ও শক্তিশালী রাখার অঙ্গীকার করি।”
সমগ্র কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।

