যোগ দিবসে হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্রে ব্যাপক উৎসাহ, যোগচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২১ জুন: আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে রবিবার সারা বিশ্বের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়েছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রাজধানী আগরতলায় হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা। তাঁর উপস্থিতিতে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গোটা প্রাঙ্গণ যেন সুস্থতা, সচেতনতা ও ইতিবাচকতার এক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়, বিভিন্ন দফতরের পদস্থ আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, ক্রীড়াবিদ, যোগ প্রশিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা। সকাল থেকেই প্রদর্শনী কেন্দ্রে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যোগ প্রশিক্ষকদের নেতৃত্বে সমবেতভাবে বিভিন্ন যোগাসন, প্রাণায়াম ও ধ্যানের অনুশীলন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে যোগচর্চা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। যোগ কেবল একটি শারীরিক ব্যায়াম নয়, এটি মানুষের শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে ভারসাম্য স্থাপনের একটি প্রাচীন বিজ্ঞান। নিয়মিত যোগাভ্যাস মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক স্তরে যোগের গুরুত্ব নতুনভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অসংখ্য মানুষ সুস্থ ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য যোগচর্চাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করেছেন। ত্রিপুরাতেও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ মন্ত্রী টিংকু রায় তাঁর বক্তব্যে বলেন, যুব সমাজকে মাদকাসক্তি ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার পাশাপাশি যোগচর্চার প্রসার অত্যন্ত জরুরি। যোগ মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, একাগ্রতা এবং মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে। তাই আগামী প্রজন্মকে সুস্থ ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে যোগচর্চার বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে জানান, নিয়মিত যোগাভ্যাস তাদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করছে। অনেকেই ভবিষ্যতেও নিয়মিত যোগচর্চা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষ্যে হাঁপানিয়া আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত এই বৃহৎ কর্মসূচি রাজ্যের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে এবং বিপুল জনসমাগমের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল বার্তা—‘সুস্থ শরীর, সুস্থ মন ও সুস্থ জীবন’—নিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয় এদিনের অনুষ্ঠান।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *