রঞ্জিতনগর কাটাখালের পাশে যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগ পরিবারের

আগরতলা, ২১ জুন : রাজধানী আগরতলায় রঞ্জিতনগর এলাকায় কাটাখালের পাশ থেকে জনৈক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রবিবার ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মৃত যুবকের নাম শুভজিৎ পাল (২৮)। তিনি আগরতলার চান্দিনামুড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন। তাঁর পিতা বিশ্বজিৎ পাল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ শুভজিৎ বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপর সারাদিন তিনি বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও তাঁর কোনও সন্ধান পাননি। রবিবার রঞ্জিতনগর কাটাখালের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা যুবকের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহটি শুভজিৎ-র বলে শনাক্ত করেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পশ্চিম আগরতলা থানার পুলিশ। পাশাপাশি তদন্তে সহায়তার জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফরেনসিক কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন এবং মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেন।

এদিকে, মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শুভজিৎ-র ভাই অভিযোগ করে জানান, তাঁর ভাইকে অন্য কোথাও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পর মৃতদেহ রঞ্জিতনগর কাটাখালের পাশে এনে ফেলে রাখা হয়েছে। তিনি এ ঘটনায় শুভজিৎ-র কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি।

পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোনও অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিবারের উত্থাপিত অভিযোগগুলিও গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। বর্তমানে এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের পরিবেশ বিরাজ করছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *