আগরতলা, ১০ অক্টোবর : সংবাদকর্মীদের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হলেন সংবাদ জগতের কর্মীরা। শনিবার শ্যামলী বাজারের রাস্তায় বসে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হন তাঁরা। সংবাদকর্মীদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
সংবাদকর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অথচ সংবাদ সংগ্রহের মতো পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের উপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিন শ্যামলী বাজারের রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তোলেন সংবাদ জগতের কর্মীরা। তাঁদের বক্তব্য, সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।
প্রতিবাদীদের দাবি, সাংবাদিকরা সমাজের বিভিন্ন ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরেন এবং মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। সেই দায়িত্ব পালনের সময় তাঁদের উপর আক্রমণ হলে তা শুধু একজন সংবাদকর্মীর উপর হামলা নয়, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের উপরও আঘাত। তাই এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, হামলায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে এদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সরব হন সংবাদ জগতের কর্মীরা। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এদিকে, তিন সংবাদকর্মীর উপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক মিডিয়া সোসাইটি।
সংগঠনের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়, জিবিপি হাসপাতাল এলাকায় তিন সংবাদকর্মী চন্দন দে, শিবানন্দ শীল ও অজয় দাসকে গাড়িচাপা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক মিডিয়া সোসাইটি।
গত বুধবার রাতে নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে জিবিপি হাসপাতাল এলাকায় আক্রান্ত হন ওই তিন সংবাদকর্মী। এই ঘটনায় তাঁরা গুরুতর আহত হন এবং তাঁদের জিবিপি হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পরদিন ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক মিডিয়া সোসাইটির একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে আহত সংবাদকর্মীদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। পাশাপাশি জিবি ফাঁড়ির পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
কিন্তু ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা না হওয়ায় সাংবাদিক মহলে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। পুলিশের ভূমিকা ও নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে শনিবার রাজ্যের সাংবাদিকরা জিবিপি এলাকায় পথ অবরোধে শামিল হন। পরে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
পুলিশের অ্যাডিশনাল এসপি ধ্রুবনাথ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে সাংবাদিকরা পথ অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক মিডিয়া সোসাইটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে, সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। সংবাদ সংগ্রহের কাজে যুক্ত সাংবাদিকদের উপর এ ধরনের হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে সংগঠন।
সোসাইটির সভাপতি প্রণব সরকার জানান, পুলিশের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা না হলে সাংবাদিকরা পুনরায় বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক মিডিয়া সোসাইটির সভাপতি প্রণব সরকার, সম্পাদক সৌরজিৎ পাল, সহ-সম্পাদক রণজিৎ দেববর্মা-সহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার স্বার্থে প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে ত্রিপুরা ইলেকট্রনিক মিডিয়া সোসাইটি।

