ইটভাটায় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের নির্দেশ

আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর  : শীতের মরশুমে বহিঃরাজ্য থেকে ত্রিপুরায় আসতে চলা পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে ইটভাটা মালিক ও উদ্যোক্তাদের একাধিক নির্দেশ দিল শ্রম দফতর। পরিযায়ী শ্রমিকদের শ্রম আইন মেনে কর্মসংস্থান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের থাকা-খাওয়া, পানীয় জল, শৌচালয় এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে শ্রমিকদের সঠিক তথ্য শ্রম দফতরকে জানানোও বাধ্যতামূলক বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার শ্রম দফতরের মিলনায়তনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ইটভাটা মালিক ও উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম কমিশনার বিশ্বজিৎ পাল, যুগ্ম শ্রম কমিশনার বিনয় ভূষণ দাস এবং চিফ ইন্সপেক্টর অফ ফ্যাক্টরিজ অ্যান্ড বয়লার্স সূর্য পাল মজুমদার। এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ইটভাটা মালিক ও উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

শীতের মরশুমে প্রতি বছরই বহিঃরাজ্য থেকে বহু পরিযায়ী শ্রমিক ইটভাটায় কাজ করতে ত্রিপুরায় আসেন। তাঁদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায়। শ্রম দফতরের পক্ষ থেকে ইটভাটা মালিকদের জানানো হয়, কাজের জন্য রাজ্যে আসা শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, শৌচালয় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য মৌলিক পরিষেবার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, ইটভাটায় কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের বিষয়ে সঠিক তথ্য শ্রম দফতকে দিতে হবে। শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ, মজুরি, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য শ্রম অধিকার যাতে যথাযথভাবে বজায় থাকে, সেদিকেও ইটভাটা মালিকদের নজর দিতে হবে। শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি মেনে শ্রমিক নিয়োগ ও কর্মপরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে মালিকপক্ষকে সতর্ক করা হয়।

এদিন বৈঠক প্রসঙ্গে শ্রম কমিশনার বিশ্বজিৎ পাল জানান, ইটভাটায় কাজ করতে আসা শ্রমিকদের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে আসা পরিবারের সদস্যদের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে শ্রমিকদের সঙ্গে আসা শিশুদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

তিনি জানান, পরিযায়ী শ্রমিকদের যাতে কোনও ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হতে না হয়, সেজন্য ইটভাটা মালিকদের আগাম কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শ্রমিকদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।

শ্রম কমিশনার আরও জানান, রাজ্যে ইটভাটা শিল্পের কাজ যাতে সুষ্ঠু ও নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। তবে একইসঙ্গে শ্রম আইন ও সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার দায়িত্ব ইটভাটা মালিক ও উদ্যোক্তাদের বলেও বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

শীতের মরশুমে পরিযায়ী শ্রমিকদের আগমন শুরুর আগেই ইটভাটাগুলিতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার ওপর জোর দিয়েছে শ্রম দফতর। শ্রমিকদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্য ও শিশুদের নিরাপত্তাকেও এই উদ্যোগের আওতায় রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে বৈঠক থেকে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *