গণ্ডাছড়া, ১৯ সেপ্টেম্বর : দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা পুজোর দিন দুপুরে গণ্ডাছড়া এলাকা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হলেন স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে গণ্ডাছড়া থানার পুলিশ।
নিখোঁজ ব্যক্তির নাম জীবন চৌধুরী (৪৩)। তিনি গণ্ডাছড়ার ষাটকার্ড এলাকার বাসিন্দা এবং গণ্ডাছড়া হাসপাতালের এমপিডব্লিউ কর্মী হিসেবে কর্মরত। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শুক্রবার বিশ্বকর্মা পুজোর দিন দুপুরে নিজের স্কুটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ বিশ্বকর্মা পুজোর প্রসাদ খাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন জীবন চৌধুরী। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। সন্ধ্যার দিকে তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন বোন সজল চৌধুরী। তখন জীবন জানান, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে ডুম্বুর জলাশয়ের কিনারায় নাইরাহা চৌধুরীপাড়া এলাকায় রয়েছেন।
এরপর সেটিই হয়ে ওঠে পরিবারের সঙ্গে জীবনের শেষ যোগাযোগ। কিছুক্ষণ পর থেকেই তাঁর মোবাইল ফোনে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে স্থানীয়দের জানান এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা নাইরাহা চৌধুরীপাড়া সংলগ্ন ডুম্বুর জলাশয়ের এলাকায় গিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। সেখানে দুটি পৃথক জায়গা থেকে জীবনের জুতো উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোনও উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েও জীবন চৌধুরীর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বাড়ির একমাত্র রোজগেরে সদস্যের এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় কার্যত দিশেহারা তাঁর পরিবার। দুই ভাই, মা ও বোনকে নিয়ে জীবন চৌধুরীর সংসার। ছেলের নিখোঁজের খবরে ভেঙে পড়েছেন তাঁর ৮০ বছর বয়সী মা। পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ষাটকার্ড এলাকার পরিবেশ।
জীবনের বোন সজল চৌধুরী ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, ভাই বন্ধুদের সঙ্গে ডুম্বুর জলাশয়ের কাছে থাকার কথা ফোনে জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের তরফে দ্রুত জীবন চৌধুরীকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
লোকালয় থেকে একজন স্বাস্থ্যকর্মীর এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এবং পরবর্তীতে জলাশয়ের পাড় থেকে তাঁর জুতো ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত কারণ কী, তিনি কীভাবে নিখোঁজ হলেন কিংবা ডুম্বুর জলাশয়ের সঙ্গে ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না—তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিখোঁজ জীবন চৌধুরীর সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

