পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ‘স্টপ ডায়রিয়া ক্যাম্পেন’-এর সূচনা

আগরতলা, ২৩ জুন : বর্ষা মৌসুমে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেলেও এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে বাড়িতেই ডায়রিয়ার চিকিৎসা সম্ভব বলে জানিয়েছেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। মঙ্গলবার রাজধানী আগরতলায় এডি নগরস্থিত ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কমিউনিটি হলে পশ্চিম জেলা ভিত্তিক ‘স্টপ ডায়রিয়া ক্যাম্পেন-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই বার্তা দেন।

বর্ষা মৌসুমে বিশেষ করে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার সংক্রমণ বাড়তে দেখা যায়। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের উদ্যোগে গত ১৬ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ‘স্টপ ডায়রিয়া ক্যাম্পেন-২০২৬’ পালন করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার পশ্চিম জেলার কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, স্থানীয় কর্পোরেটর, স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের রাজ্য শাখার প্রতিনিধিসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিশুদের মায়েদের হাতে প্রতীকীভাবে ওআরএস প্যাকেট এবং জিঙ্ক ট্যাবলেট তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র দীপক মজুমদার বলেন, “ডায়রিয়া একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও সময়মতো সচেতনতা ও প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ওআরএস খাওয়ানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জিঙ্ক ট্যাবলেট ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ‘স্টপ ডায়রিয়া ক্যাম্পেন’ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে ওআরএস ও জিঙ্ক ট্যাবলেট বিতরণ করা হবে।

স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা জানান, পশ্চিম জেলায় বর্তমানে প্রায় ৬৮ হাজার ৪০০ জন শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশু রয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েই কাজ করবে আশা কর্মীরা। আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের পরিবারের হাতে ওআরএস ও জিঙ্ক ট্যাবলেট তুলে দেওয়ার পাশাপাশি ডায়রিয়া প্রতিরোধ এবং পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সচেতন করবেন।

স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ওআরএস এবং জিঙ্ক ট্যাবলেট মজুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার, হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং খাদ্য গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বনের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের ডায়রিয়া সংক্রান্ত ঝুঁকি কমিয়ে তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনসচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *