আগরতলা, ২২ জুন : রাস্তা নেই, নেই নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ভেঙে পড়ে রয়েছে একটি বক্স কালভার্ট। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঁচা রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। এমনই অভিযোগ উঠেছে পশ্চিম ত্রিপুরার ১১ মান্দাই বাজার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত দীনবন্ধু নগর এলাকার ভবচন্তাই থেকে কামানমুড়া সংযোগকারী সড়ককে কেন্দ্র করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবচন্তাই থেকে কামানমুড়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ ব্যবস্থায় সামান্য ব্রিকস সলিং পর্যন্ত নেই। বছরের পর বছর ধরে কাঁচা রাস্তার উপর নির্ভর করেই চলাচল করছেন গ্রামবাসীরা। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। কাদা ও জল জমে রাস্তাটি কার্যত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, ফলে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, রোগী, কৃষক এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসীরা জানান, এই রাস্তার উপর থাকা একটি বক্স কালভার্ট প্রায় পাঁচ বছর আগে ছড়ার প্রবল স্রোতে ভেঙে যায়। এরপর ধীরে ধীরে কালভার্টটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন কালভার্ট নির্মাণ কিংবা রাস্তা সংস্কারের কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে এলাকাবাসীদের বিকল্প ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দফতর এবং জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, এলাকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম উদাসীনতা দেখানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয়রা ১১ মান্দাই বাজার কেন্দ্রের বিধায়িকা স্বপ্না দেববর্মা এবং ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর সদস্য জগদীশ দেববর্মার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এলাকাবাসীদের আরও অভিযোগ, শুধু রাস্তা নয়, এলাকায় পরিশ্রুত পানীয় জলের সমস্যাও দীর্ঘদিনের। নিত্যদিনের এই মৌলিক সমস্যা নিয়ে বহুবার আবেদন-নিবেদন করা হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে গ্রামবাসীরা বলেন, দেশ যখন উন্নয়ন ও আধুনিকতার পথে এগিয়ে চলেছে, তখন ২০২৬ সালেও দীনবন্ধু নগরের মতো এলাকায় মৌলিক পরিকাঠামোর এমন বেহাল দশা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। তারা অবিলম্বে ভাঙা কালভার্ট পুনর্নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার এবং পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীদের আশা, প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মানুষকে মুক্তি দেবে।

