বক্সনগর, ৫ নভেম্বর : ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন যুবক। বৃহস্পতিবার ভোরে বক্সনগর এলাকায় বাইক ও নম্বরবিহীন বোলেরো ডিআই পিকআপ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২৮ বছর বয়সি সোহাগ মিয়ার। এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে সোনামুড়া ও সংলগ্ন এলাকায়। দুর্ঘটনার পর গাড়িটি পালিয়ে যাওয়ায় তার সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সোনামুড়া থানার পুলিশ।
নিহত সোহাগ মিয়া সোনামুড়া নগর পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ধোলিয়াই এলাকার বাসিন্দা। তিনি হানিফ মিয়ার পুত্র। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৫টা নাগাদ নিজের বাইক নিয়ে সোনামুড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন সোহাগ। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই পথে ঘটে যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনামুড়ামুখী একটি নম্বরবিহীন বোলেরো ডিআই পিকআপ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিপরীত দিক থেকে এসে সোহাগের বাইকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের অভিঘাতে বাইক থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান তিনি। গুরুতর আঘাতের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় জরুরি পরিষেবা দফতরে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সোনামুড়া অগ্নিনির্বাপক দফতরের কর্মীরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হয় সোনামুড়া থানার পুলিশ। পুলিশ ও উদ্ধারকারী কর্মীরা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃতদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ সোনামুড়া সামাজিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়।
এদিকে, সোহাগের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, এক শিশু কন্যা, এক শিশু পুত্র এবং বৃদ্ধ মা-বাবাকে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তাঁর পরিবার। স্বামীর অকালমৃত্যুতে স্ত্রী এবং দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক পরিণতিতে ধোলিয়াই এলাকা থেকে শুরু করে গোটা সোনামুড়ায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যাওয়া নম্বরবিহীন বোলেরো ডিআই পিকআপ গাড়িটির সন্ধানে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে সোনামুড়া থানার পুলিশ। গাড়িটি শনাক্ত করে চালকের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং গাড়িটির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

