আগরতলা, ৫ নভেম্বর : আগরতলা পুর নিগম নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে তৎপর হয়ে উঠেছে প্রদেশ কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার পুর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫০টি ওয়ার্ডে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে কংগ্রেস। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংক্রান্ত সমস্যার কারণে একটি ওয়ার্ডে এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামীকাল ওই ওয়ার্ডেও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতৃত্ব। ফলে, ৫১টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে এগুচ্ছে কংগ্রেস।
এদিন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সরকার এবং আগরতলা পুর নিগমের বিগত পাঁচ বছরের কাজকর্ম নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও আগরতলা শহরের সার্বিক উন্নয়নে কোনও কার্যকর মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করতে পারেনি শাসক দল। শহরের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলা হলেও বাস্তবে নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
স্মার্ট সিটি প্রকল্পের অর্থের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আশীষ কুমার সাহা। প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, শহরের উন্নয়নের নামে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হলেও তার সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পেয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।
কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে নাগরিক পরিষেবা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর মতে, আগরতলা পুর নিগমের নির্বাচন শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং শহরের মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা এবং তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।
বিশেষ করে সম্পত্তি কর ও জলকর বৃদ্ধির বিষয়টিকে নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার কথা জানান তিনি। কংগ্রেসের অভিযোগ, পুর নিগমের বিভিন্ন কর বৃদ্ধির ফলে সাধারণ নাগরিকদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হলে নাগরিকদের এই করের বোঝা লাঘব করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য।
শহরের পানীয় জলের সমস্যা, পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিক পরিষেবার বেহাল পরিস্থিতি নিয়েও শাসক দলের সমালোচনা করেন আশীষ কুমার সাহা। তাঁর অভিযোগ, রাজধানী শহরের বিভিন্ন এলাকায় এখনও পানীয় জল নিয়ে সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও পুর নিগম প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি।
সব মিলিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, করের বোঝা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং নাগরিক পরিষেবার ব্যর্থতাকে সামনে রেখেই আসন্ন পুর নিগম নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। ৫১টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্য নিয়েছে দল। জনগণের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে ভালো ফল করার ব্যাপারে আশাবাদী কংগ্রেস নেতৃত্ব।

