আগরতলা, ৫ নভেম্বর : ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগুচ্ছে ত্রিপুরা। জনজাতিদের ভূমির অধিকার সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি আগামী দু’একদিনের মধ্যেই প্রকাশিত হতে পারে বলে জানালেন তিপ্রা মথা দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মন। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তরফে তাঁকে দিল্লিতে যাওয়ার নির্দেশ আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে আগরতলায় ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান প্রদ্যোৎ।
ত্রিপাক্ষিক চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জনজাতিদের ভূমির অধিকার সংক্রান্ত বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। প্রদ্যোৎ জানান, বুধবার (৪ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। সেই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই আগামী দু’একদিনের মধ্যে ভূমি সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুদিনের মধ্যেই তাঁদের দিল্লিতে আলোচনার জন্য ডাকতে পারেন।
এদিন আগরতলা বিমানবন্দরে প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মনকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন তিপ্রা মথার দুই সাধারণ সম্পাদক তথা প্রতিমন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মা এবং বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিটিএএডিসি-র মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য রুলিয়েল দেববর্মা সহ মথার বিধানসভার পরিষদীয় দলের একাধিক সদস্য ও সদস্যা।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রদ্যোৎ বলেন, জনজাতিদের ভূমির অধিকার সংক্রান্ত বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এই বিষয়টি নিয়ে যত বেশি দেরি হবে, ততই অন্যরা ফায়দা তোলার সুযোগ পাবে। রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে জনজাতিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভূমির অধিকার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রদ্যোৎ। তাঁর কথায়, রাজ্য এবং রাজ্যের জনজাতিদের স্বার্থ নিয়েও কোনও আপস করা চলবে না। এই বিষয়টিকে কিছু মানুষ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেই। তবে নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় থাকলে কোনও রাজনৈতিক শক্তিই তাঁদের পৃথক করতে পারবে না।
প্রদ্যোতের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়ন এবং জনজাতিদের ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং দিল্লিতে পরবর্তী আলোচনার সম্ভাবনা ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে নজর রয়েছে।

