জিবিপি হাসপাতালে পেন ডাউন প্রত্যাহার, অধিকাংশ দাবি মেনে নিল কর্তৃপক্ষ

আগরতলা, ৫ অক্টোবর: অধিকাংশ দাবি কর্তৃপক্ষ মেনে নেওয়ায় আপাতত পেন ডাউন আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিল জিবিপি হাসপাতালের রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন। সোমবার অবস্থান কর্মসূচির পর জিবিপি হাসপাতাল চত্বরে রেলি করে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। তবে একই সঙ্গে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মেনে নেওয়া দাবিগুলি বাস্তবায়নে পরবর্তী সময়ে কোনও গাফিলতি দেখা দিলে ফের বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই জিবিপি হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এরই প্রতিবাদে সোমবার থেকে রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এবং স্টুডেন্টস কাউন্সিল যৌথভাবে পেন ডাউন আন্দোলন শুরু করে। পাশাপাশি হাসপাতালের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতেও শামিল হন চিকিৎসক ও পড়ুয়ারা। এর ফলে রাজ্যের প্রধান রেফারেল হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

পরিস্থিতির খবর পেয়ে স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জিবিপি হাসপাতালে ছুটে আসেন। পাশাপাশি পুলিশ আধিকারিক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরাও হাসপাতালে পৌঁছেন। আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন তাঁরা। বৈঠকে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। আলোচনার পর দাবিগুলির অধিকাংশই মেনে নেওয়া হয়েছে বলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপরই আপাতত পেন ডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আন্দোলন প্রত্যাহারের পর রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের জনৈক কর্মকর্তা জানান, তাঁদের মূল দাবিগুলির অধিকাংশই কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে। ফলে আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিতে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের গাফিলতি কিংবা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে খামতি দেখা দিলে ফের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তাঁরা। প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে আধিকারিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা জানান, ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে এটি নন-কগনিজেবল অফেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আদালতের মাধ্যমে বিষয়টির কগনিজেন্স নেওয়া হয়েছে। ফলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।

তবে চিকিৎসকদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়া হলেও জিবিপি হাসপাতাল চত্বরে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা নির্দেশিকা সামনে না আসায় বিভ্রান্তি অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, রবিবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য জিবিপি হাসপাতালে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনদের বিভিন্ন সমস্যার ছবি ও বক্তব্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের একাংশ সমস্যার মুখে পড়েন। ক্যামেরা ও মোবাইল নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ ওঠে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে সংবাদ পরিবেশনেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয় বলে সাংবাদিক মহলের অভিযোগ। চিকিৎসকদের আন্দোলন আপাতত প্রত্যাহার হলেও সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়ায় এই বিতর্কের এখনও অবসান ঘটেনি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *