চোরকে জিজ্ঞাসাবাদে বড়সড় সাফল্য, বাধারঘাট থেকে কুখ্যাত ডাকাত গ্রেফতার

আগরতলা, ২৪ আগস্ট  : আমতলি থানা এলাকায় একের পর এক চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। ধৃত কুখ্যাত চোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাধারঘাট এলাকা থেকে অভিজিৎ গোয়ালা নামে কুখ্যাত ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, আমতলি, বাধারঘাট-সহ আগরতলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় অভিজিৎ গোয়ালার যোগসূত্র রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট আমতলি থানা এলাকার দীপক দাসের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আমতলি থানায় মামলা দায়ের হলে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁকে পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর তদন্তকারীরা একটি বড়সড় চোরের দলের সন্ধান পান।

এরপর শনিবার রাতে আমতলি থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে মধ্য চাড়িপাড়া এলাকা থেকে মালু মিয়া নামে কুখ্যাত চোরকে গ্রেফতার করে। রবিবার তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মালু মিয়ার কাছ থেকে একাধিক চোর ও ডাকাতের নাম এবং তাঁদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই রবিবার রাতে বাধারঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিজিৎ গোয়ালাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, অভিজিৎ গোয়ালা আমতলি, বাধারঘাট এবং আগরতলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক চুরি ও ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাঁর সঙ্গে আরও কারা যুক্ত রয়েছে এবং চুরি-ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া সামগ্রী কোথায় রয়েছে, তা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার ধৃত অভিজিৎ গোয়ালাকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। এদিন আমতলি থানার সাব-ইন্সপেক্টর দিলীপ দাস জানান, ধৃতকে পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পুলিশ।

পাশাপাশি আমতলি থানা এলাকায় রাতের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রুখতে টহলদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান সাব-ইন্সপেক্টর দিলীপ দাস। রাতের বিভিন্ন সময়ে পুলিশের বিশেষ নজরদারি ও টহল চলছে। চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য দুষ্কৃতীদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

ধারাবাহিক এই পুলিশি অভিযানে চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত একটি বড় চক্রের হদিস মিলতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। তবে গোটা ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *