আগরতলা, ১৯ আগস্ট: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিষেবায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বুধবার আগরতলার জিবিপি হাসপাতালে ‘ভারত মাতা ক্যান্টিন-কাম-নাইট শেল্টার হাউস’-এর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে আসা পরিবারের সদস্য ও পরিজনদের থাকা এবং খাবারের সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যেই প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে।
উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী আশ্রয়কেন্দ্রটির বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন। তিনি সেখানে থাকা পরিকাঠামো, পরিষেবা এবং রোগীর পরিজনদের জন্য রাখা সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রটি যাতে যথাযথভাবে পরিচালিত হয় এবং রোগীর পরিজনরা পরিষেবার সুফল পান, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, স্বাস্থ্য সচিব কিরণ গিত্তে, স্বাস্থ্য দফতরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক-সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দূরদূরান্ত থেকে জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও আসেন। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের থাকার জায়গা ও খাবারের সমস্যায় পড়তে হয়। এই বিষয়টি বিবেচনা করেই ‘ভারত মাতা ক্যান্টিন-কাম-নাইট শেল্টার হাউস’ তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের আত্মীয়-স্বজনদের থাকার পাশাপাশি খাবারের ক্ষেত্রেও সুবিধা হবে।
কেন্দ্রটির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেন। নিরাপত্তা ও পরিষেবার উপর কার্যকর নজরদারির জন্য একটি কমান্ড সেন্টার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ডাঃ সাহা স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও এই কেন্দ্রটির উপর নিয়মিত নজরদারি চালানোর আহ্বান জানান। আশ্রয়কেন্দ্রটি সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, পরিষেবাগুলি যথাযথভাবে পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং রোগীর পরিজনরা কোনও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখার জন্য তিনি জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের শহরাঞ্চলে গৃহহীন ও প্রয়োজনীয় আশ্রয়ের সন্ধানে থাকা মানুষের জন্য ‘ত্রিপুরা আরবান লাইভলিহুড মিশন’-এর অধীনে প্রায় ১২টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১টির নির্মাণকাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে। বাকি দুটি আশ্রয়কেন্দ্রও শীঘ্রই চালু করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। সব মিলিয়ে এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলি নির্মাণে প্রায় ২৬.৮৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিন রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ধলাই জেলায় ১০০ আসনবিশিষ্ট একটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠান আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে রাজ্যের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ট্রমা কেয়ার এবং কার্ডিয়াক কেয়ার সেন্টারের গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন ড. সাহা। তিনি বলেন, আধুনিক ও উন্নত হাসপাতাল পরিষেবার ক্ষেত্রে ট্রমা কেয়ার এবং কার্ডিয়াক কেয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাজ্যের সমস্ত মহকুমা ও জেলা হাসপাতালে এই পরিষেবা চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে, তেমনই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিনের থাকা ও খাবারের সমস্যাও অনেকটাই দূর হবে বলে মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের।

