শিক্ষার পাশাপাশি সন্তানদের মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে : মানিক সরকার

আগরতলা, ১৬ আগস্ট : ছেলেমেয়েদের ছোটবেলা থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষায় পাশ করে সার্টিফিকেট অর্জন করলেই হবে না, সন্তানদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও পারিবারিক দায়িত্ববোধের শিক্ষায়ও অভিভাবকদের বিশেষ নজর দিতে হবে।

রবিবার রাজধানী আগরতলায় মুক্তধারা প্রেক্ষাগৃহে উমাপদ বর্মণ ও অঞ্জলি বর্মণ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই বার্তা দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সন্তানদের মূল্যবোধের শিক্ষাদানে কোনও ধরনের দুর্বলতা দেখালে ভবিষ্যতে তার ফল পিতা-মাতাকেই ভোগ করতে হতে পারে।

মানিক সরকার বলেন, বর্তমান সময়ে সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অভিভাবকদের প্রধান লক্ষ্য যেন শুধু ভালো ফলাফল বা উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা অন্য কোনও পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি একজন সন্তান কতটা মানবিক, দায়িত্বশীল ও পরিবারের প্রতি কর্তব্যপরায়ণ হয়ে উঠছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মূল্যবোধের শিক্ষার অভাব ভবিষ্যতে পরিবার ও সমাজে নানা সমস্যার জন্ম দিতে পারে। সন্তানদের মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই তাঁদের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মানবোধ তৈরি করা প্রয়োজন।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, অনেক সময় উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত সন্তানরাই বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসেন। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং সমাজের জন্যও চিন্তার। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলিকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে একটি সামাজিক আঘাত হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাই সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি তাঁদের নৈতিক ও মানবিক চরিত্র গঠনের প্রতিও অভিভাবকদের সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিন উমাপদ বর্মণ ও অঞ্জলি বর্মণ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের উদ্যোগের প্রশংসা করেন মানিক সরকার। আর্থিকভাবে দুর্বল অথচ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের মানবিক উদ্যোগ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের অন্যান্য সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও শিক্ষার্থীদের পাশে এগিয়ে আসবেন।

অনুষ্ঠানে নির্বাচিত দুঃস্থ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়। আর্থিক সহায়তা পেয়ে ছাত্রছাত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত ও উৎসাহিত হয়। তাঁদের পড়াশোনার পথে এই সহযোগিতা বিশেষভাবে সহায়ক হবে বলে অনুষ্ঠানে আশা ব্যক্ত করা হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন মেধাবী ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়, তেমনই সন্তানদের সার্বিক শিক্ষার ক্ষেত্রে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্বও উঠে আসে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *