ত্রিপুরায় ৮ লক্ষের বেশি যানবাহন, সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে কর্মশালা

আগরতলা, ১৪ জুলাই : গত পাঁচ বছরে ত্রিপুরায় নথিভুক্ত যানবাহনের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।  এই পরিস্থিতিতে সড়ক নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পরিবহন দফতর ও ত্রিপুরা পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।  মঙ্গলবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে মোটর যান আইন (মটর ভেহিকেল অ্যাক্ট) এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা নিয়ে আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকার আলোকে রাজ্যের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যে এই কর্মশালার আয়োজন করে পরিবহণ দফতর।  অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক আইজিপি মনচাক ইপ্পা, পরিবহণ দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, বিভিন্ন সরকারি বিভাগের প্রতিনিধিরা এবং রাজস্থান, কেরলম, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট থেকে আগত বিশিষ্ট রিসোর্স পার্সনরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী রাজ্যের বর্তমান পরিবহণ ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরেন।  তিনি জানান, পাঁচ বছর আগে ত্রিপুরায় নথিভুক্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল প্রায় চার লক্ষ।  বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে আট লক্ষেরও বেশি হয়েছে।  যানবাহনের এই দ্রুত বৃদ্ধি যেমন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের ইঙ্গিত বহন করে, তেমনি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার চ্যালেঞ্জও বাড়িয়ে তুলেছে।

মন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপ সামাল দিতে এবং দুর্ঘটনা রোধে পরিবহণ দফতর ও ত্রিপুরা পুলিশ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে চলেছে।  সড়ক নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সড়ক নিরাপত্তা শুধুমাত্র সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এর সঙ্গে প্রত্যেক চালক, যাত্রী এবং সাধারণ নাগরিকেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে।  ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা বজায় রাখা, হেলমেট ও সিটবেল্ট ব্যবহার এবং মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানোর মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করলেই অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

কর্মশালায় রাজস্থান, কেরলম,, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট থেকে আগত রিসোর্স পার্সনরা বিভিন্ন রাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক বিধি প্রয়োগের আধুনিক পদ্ধতি, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দুর্ঘটনা হ্রাসে গৃহীত সফল উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।  পাশাপাশি ত্রিপুরায় সেই অভিজ্ঞতা ও মডেলগুলির প্রয়োগের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, এই কর্মশালার সূচনা সোমবার হওয়ার কথা থাকলেও কাতারের রাষ্ট্রপ্রধানের প্রয়াণে দেশে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে নির্ধারিত দিনে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।  পরবর্তীতে মঙ্গলবার প্রজ্ঞা ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগের আধুনিকীকরণ এখন সময়ের দাবি।  সেই লক্ষ্যেই এই ধরনের কর্মশালা ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *