দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হতে চলেছে ত্রিপুরা
আগরতলা, ৯ জুলাই : আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার এবং রাজ্যের অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ’। বাংলাদেশের সঙ্গে সড়ক, রেল ও বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা।
বৃহস্পতিবার আগরতলায় হাঁপানিয়ায় আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের অডিটোরিয়ামে মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে দুই দিনের ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এই কনক্লেভে দেশ-বিদেশের প্রায় এক হাজার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেছেন, যা আয়োজকদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। বিপুল সাড়া এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী।
কনক্লেভ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ত্রিপুরায় বিনিয়োগের জন্য দেশ-বিদেশের শিল্পপতি ও প্রতিনিধিদের আগ্রহ আমাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। রাজ্যে শিল্প ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সকল বিনিয়োগকারী এবং প্রতিনিধিদের আমি আন্তরিক অভিনন্দন ও স্বাগত জানাই।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ত্রিপুরার ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই লক্ষ্য পূরণে প্রতিবেশী বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
তাঁর কথায়, “বাংলাদেশ যদি ত্রিপুরার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সড়কপথ, রেলপথ এবং বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে তা শুধু ত্রিপুরার নয়, সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”
তিনি জানান, বর্তমানে আগরতলায় অবস্থানরত ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে বাণিজ্য, পর্যটন, রপ্তানি এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক অগ্রগতি সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার পর্যন্ত চলা এই দুই দিনের বিজনেস কনক্লেভে দেশ ও বিদেশের মোট ১৫৯টি সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে। শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, পর্যটন, কৃষি-প্রক্রিয়াকরণ, রাবার, বাঁশ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই কনক্লেভের মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই বিপুল বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত হওয়া এবং অর্থনৈতিক ভিত আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মহলের মতে, ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা বিজনেস কনক্লেভ’ শুধুমাত্র বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি মঞ্চ নয়, বরং ত্রিপুরাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

