দত্তক গ্রহণে আইন সরলীকরণে রাজ্যের হাত নেই, সমন্বয়ের উপর জোর দিলেন মন্ত্রী টিংকু

আগরতলা, ৯ জুলাই  : শিশু দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সরলীকরণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। এই পুরো প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম ও নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। তবে শিশু দত্তক গ্রহণের কাজে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর ও প্রশাসনিক স্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করা অত্যন্ত জরুরি। বৃহস্পতিবার আগরতলায় প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত ‘দত্তক গ্রহণ বিধিমালা-২০২২’ বিষয়ক রাজ্যভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এই কথা বলেন সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী টিংকু রায়।

এদিন প্রজ্ঞা ভবনে সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দফতরের উদ্যোগে রাজ্যভিত্তিক প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী টিংকু রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দফতরের অধিকর্তা, যুগ্ম অধিকর্তা, বিভিন্ন প্রশাসনিক বিভাগের আধিকারিক এবং শিশু সুরক্ষা ও দত্তক গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে কর্মশালার উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, শিশু দত্তক গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত বিধি ও নির্দেশিকা অনুসরণ করেই ত্রিপুরাসহ দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। ফলে দত্তক গ্রহণের ক্ষেত্রে আইন বা বিধিমালার সরলীকরণ রাজ্য সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিশু দত্তক গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে দ্রুত ও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজন। আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে যাচাই-বাছাই, নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণ এবং অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে যাতে সময়ক্ষেপণ কম হয় এবং প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও মসৃণ হয়, সেই লক্ষ্যেই এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে, অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যে বয়স্ক ভাতা প্রদান নিয়ে চলমান সমস্যার বিষয়েও কথা বলেন মন্ত্রী টিংকু রায়। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তা প্রদানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার কারণে এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত রাজ্যের বহু বয়স্ক ভাতা প্রাপক ভাতা পাননি।

মন্ত্রী জানান, এতদিন কেন্দ্র ও রাজ্যের আর্থিক অংশ একত্রিত করে রাজ্য সরকার সুবিধাভোগীদের বয়স্ক ভাতা প্রদান করত। তবে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় অংশের অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। এই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে গিয়েই সাময়িকভাবে ভাতা প্রদানে বিলম্ব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, নতুন পদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাই করতে পরীক্ষামূলকভাবে ইতিমধ্যেই ১০০ জন সুবিধাভোগীর অ্যাকাউন্টে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক প্রক্রিয়া সফল হওয়ায় এখন দ্রুত বকেয়া ভাতা প্রদান শুরু করা হবে।

মন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তালিকাভুক্ত সমস্ত সুবিধাভোগী অন্তত দুই মাসের বকেয়া বয়স্ক ভাতা পেয়ে যাবেন। নতুন পদ্ধতিতে ভাতা প্রদান ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে চালু হলে ভবিষ্যতে আর কোনও ধরনের জটিলতা বা বিলম্ব হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *